August 2020
1 SPORTS 1 TECHNOLOGY 2 অজ্ঞাত লাশ-সোনারগাঁও 4 অনিয়ম 1 অনিয়ম- শহীদ মিনার নির্মাণ 1 অনুদান 1 অপমৃত্যু-সোনারগাঁও 1 অপরাদ 39 অপরাধ 18 অপরাধ দমন 1 অপরাধ দমনে ভ্রাম্যমান আদালত 22 অপরাধ সোনারগাঁ 1 অফিস উদ্ধোধন 1 অভিনন্দন 1 অর্জন 1 অস্র উদ্ধার 3 আইনশৃঙ্খলা 12 আড়াইহাজার 4 আদালত 1 আন্তর্জাতিক 1 আশ্চার্য 1 ইফতার ও মাক্স বিতরণ-সোনারগাঁও 2 ঈদ উপহার-সোনারগাঁও 1 ঈদ কেনাকাটা -সোনারগাঁও 5 ঈদ শুভেচ্ছা 1 উদ্ধার 1 উদ্যোক্তা 6 উন্নয়ন 2 কক্সবাজার 1 কারাগার নারায়ণগঞ্জ। 2 কুড়িগ্রাম 3 কৃষকের ভাবনা 1 খুন 6 খেলাধুলা 2 গ্রেফতার -নারায়ণগঞ্জ 1 গ্রেফতার -সোনারগাঁও 3 চট্টগ্রাম 1 চাকরি 1 চাঁদপুর 2 চিকিৎসা 1 চুরি 2 জন দূর্ভোগ 1 জনসেবা ও পুলিশ 1 জনস্বার্থ 3 জন্ম উৎসব 1 জন্মদিন 3 জন্মশতবার্ষিকী পালন 96 জাতীয় 1 জাতীয়। 1 জালিয়াতি 1 টাঙ্গাইল 1 ঢাকা 1 তথ্য 1 তদন্ত 4 ত্রাণ বিতরণ 1 ত্রাণ বিতরন-বন্দর 1 দুর্যোগ 6 দূর্ঘটনা 1 ধর্ষন 1 নগদ অর্থসহায়তা 9 নারায়ণগঞ্জ 1 নারায়ণগঞ্জ সদর 39 নারায়াণগঞ্জ 1 নারায়াণগঞ্জে অস্রের লাইসেন্স। 4 নির্বাচন 3 নির্বাচন সোনারগাঁও 1 নৌকাডুবি 1 পরিচ্ছন্নতা 4 প্রতিবাদ 1 প্রতিবাদ সভা 1 প্রতিবাদ সোনারগাঁ 4 প্রধানমন্ত্রীর উপহার-সোনারগাঁও 2 ফতুল্লা নারায়ণগঞ্জ 1 বন্দর মডেল প্রেসক্লাব 3 বন্দর-নারায়ণগঞ্জ 1 বন্দর(নারায়ণগঞ্জ) 2 বহিঃবিশ্ব 2 বহিষ্কার 1 বাক্ষণবাড়িয়া 1 বানিজ্য 1 বাল্য বিবাহ বন্ধ 1 বিট পুলিশিং সোনারগাঁ 1 বিশ্ব 1 বিশ্ব বাজার 1 ব্যবসা বানিজ্য 1 ভিত্তিপ্রস্তর 1 ভূয়া কর্মকর্তা গ্রেফতার 1 ভ্রাম্যমান আদালত-সোনারগাঁও 1 মাদক উদ্ধার-নারায়ণগঞ্জ 1 মাদারীপুর 1 মানবতার সেবা 1 মানবন্ধন 1 মানবিকতা 1 মানিকগঞ্জ 1 মামলা 1 মাস্ক বিতরণ 1 মিডিয়া 2 মিডিয়া সংবাদ 3 মৃত্যু 1 রক্তদান 6 রাজনীতি 1 রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন 1 রূপগঞ্জ 1 র‌্যাব নারায়ণগঞ্জ 2 র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার 2 লকডাউন 3 শোক 4 শোক বার্তা 1 শোখ নিউজ 1 সংবাদ সম্মেলন 1 সভা-প্রতিবাদ 2 সারা বাংলা 3 সারাবাংলা 1 সিদ্ধিরগঞ্জ 1 সিনেমা 1 সেবা 3 সোনারগাঁ 1 সোনারগাঁ যাদুঘর 103 সোনারগাঁও 1 সোনারগাঁও জার্নালিষ্ট ক্লাব-নারায়ণগঞ্জ 1 সোনারগাঁও থানা পুলিশ 1 সোনারগাঁও থানা মসজিদ 2 সোনারগাঁও থানা(নারায়ণগঞ্জ) 2 সোনারগাঁও পৌর নির্বাচন 1 সোনারগাঁও মানবন্ধন 15 সোনারগাঁও রাজনীতি 3 সোনারগাঁও। 1 সোমারগাঁও 1 স্বাস্থ্য 1 স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা 1 হত্যার হুমকি

 সদ্য সংবাদ ডেস্কঃ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত বঙ্গবন্ধু সম্পর্কিত উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন মেহজাবিন আক্তার।



সোমবার সকাল ১০ টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার পাঁচটি উপজেলা থেকে ৩ জন করে মোট পনের জন প্রতিযোগী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন  রাবেয়া খাতুন, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন মেহজাবিন আক্তার (মালিবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়) এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন মাহমুদা আক্তার।

এর পূর্বে উপজেলা পর্যায়ে ভার্চুয়াল মিটিং এর মাধ্যমে "জাতির পিতার জীবন নির্ভর বক্তব্য প্রতিযোগিতা" অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে প্রতি উপজেলা থেকে ৩ জন করে মোট পনের জন শিক্ষককে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে চূড়ান্ত পর্যায়ের জন্য নির্বাচিত করা হয়।

মেহজাবিন আক্তার বন্দর  উপজেলা থেকে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে জেলা পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেন। 

উল্লেখ্য মেহজাবিন আক্তার ঢাকা  বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। তার পিতা আবু তাহের ভূঁইয়া ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ফেনী জেলায় স্বাধীনতার প্রথম পতাকা উত্তোলক।

প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জনাব মোঃ ফসিউল্লাহ, সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ জসিম উদ্দিন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা ও উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তাবৃন্দ। প্রতিযোগিতা শেষে জেলা প্রশাসক বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন এবং সমাপনী বক্তব্যে তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, 'শিক্ষার্থীদের জাতির পিতার জীবন সম্পর্কে জানাতে হবে, কেননা বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে না জানলে বাংলাদেশকে জানা যাবে না।


এসএস/বি

               


সদ্য সংবাদ ডেস্কঃ 

প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে দিল্লির আর্মি রিসার্চ অ্যান্ড রেফারেল হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বর্ষীয়ান এই কংগ্রেস নেতা। গভীর কোমায় আচ্ছন্ন ছিলেন তিনি।

গত ৯ আগস্ট পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন। এরপর স্নায়ুঘটিত সমস্যা দেখা দেওয়ায় গত ১০ আগস্ট তাকে আর্মি রিসার্চ অ্যান্ড রেফারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেদিনই অপারেশন হয় তার মাথায়। এছাড়া এর আগে থেকেই তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন।

 তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ হারালো  এক অকৃত্রিম বন্ধুকে। 



'হাসিনাকে সরাতে ‘হিলারি-ইউনূসের ষড়যন্ত্র’ নস্যাৎ করেন আওয়ামী লীগের বন্ধু প্রণব মুখার্জি। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের পটভূমি এবং প্রণব মুখার্জির সাথে শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার সাংবাদিক কে.পি নায়ারের বিশ্লেষণধর্মী এক লেখায়। সেখানে লেখক বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে ব্যর্থ হয়ে যাওয়া ‘কালার রেভ্যুলেশনে’র অজানা কাহিনী সম্পর্কে বলেছেন। যার উদ্দেশ্য ছিলো শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে ইউনূসকে বসানো। যে রেভ্যুলেশন সফল করতে কলকাঠি  নেড়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তণ পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ও নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ ইউনূস।

সাংবাদিক কে.পি নায়ার তার বিশ্লেষণধর্মী লেখায় সেই সময়ের বিভিন্ন ঘটনা উল্লেখ করে লিখেছেন, প্রচলিত রাষ্ট্রীয় নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি রাষ্ট্রপতি ভবনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে নৈশভোজের আয়োজন করেছেন। সম্ভবত ৪৫ বছরের পুরনো ব্যক্তিগত কূটনৈতিক এই সম্পর্কের সাম্প্রতিক সর্বশেষ দৃষ্টান্ত হবে রোববারের এই নৈশভোজ। এই নৈশ ভোজের মাধ্যমে প্রণব মুখার্জির উপর অর্পিত অনেক দায়-দায়িত্বসমূহ সামনে চলে আসবে যা ১৯৭১ সালের ১৫ জুন ইন্দিরা গান্ধির থেকে তাঁর উপর এসেছে। ঐতিহাসিক ওই দিনে তৎকালীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার মুজিবনগরকে একটি সার্বভৌম গণতান্ত্রিক সরকারের দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে ইন্দিরা গান্ধি প্রণব মুখার্জিকে রাজ্য সভায় আলোচনা শুরু করতে বলেছিলেন। বাংলাদেশ সৃষ্টিতে প্রণব মুখার্জির এই ইতিবাচক ভূমিকা আরও জোরদার হয়েছিলো যখন ইন্দিরা গান্ধি তাকে পূর্ব পাকিস্তানের (তৎকালীন বাংলাদেশ) মানবাধিকারের লঙ্ঘনের ঘটনা বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে ১৯৭১ সালের ২ সেপ্টেম্বরে ফ্রান্সের ভার্সাই নগরিতে অনুষ্ঠিত ইন্টার পার্লামিন্টারি ইউনিয়নের ৫৯তম কনফারেন্সে পাঠান।

৪৬ বছর আগের সে সব অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ ২০১৩ সালে প্রণব মুখার্জিকে মুক্তিযুদ্ধ সন্মাননা, স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করা হয়। এটি ছিলো রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার একমাত্র বাংলাদেশ সফর। শেখ হাসিনার এই ভারত সফরের দ্বিতীয় দিন এপ্রিলের ৮ তারিখে নয়া দিল্লীতে স্বাক্ষর হতে যাওয়া প্রায় তিন ডজন চুক্তির উপরে গুরুত্ব দিবেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু নির্মল সত্যটি হচ্ছে, সাত বছর পর শেখ হাসিনার এই রাষ্ট্রীয় সফরটি হচ্ছে এমন এক সময়ে যখন রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রণব মুখার্জি বিদায়ের প্রহর গুনছেন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যার ঘটনার পর নয়া দিল্লীর পানদারা রোডে শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের প্রায় সবাইকে ১৯৭৫ সালে ভারতের স্বাধীনতা দিবস পর্যন্ত আগলে রেখেছিলেন প্রণব মুখার্জি। ঢাকা ফিরে আসার পরে এমনকি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরেও শেখ হাসিনার প্রতি প্রণব মুখার্জির সেই আগলে রাখা শেষ হয়ে যায়নি। রাষ্ট্রপতির স্মৃতিকথার একটি খন্ডে এই প্রথম এসব ঘটনা বিশদ আকারে তৃতীয় ভলিউমে বর্ণনা করে লেখা হচ্ছে যা নিয়ে এখনও রাষ্ট্রপতি কাজ করে যাচ্ছেন।

‘কালার রেভ্যুলেশনে’র মাধ্যমে ইউক্রেন, জর্জিয়া ও মিশরের ক্ষমতার পালা বদল হয়। সম্প্রতি শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পাশ্চাত্যের কালার রেভ্যুলেশনের পরিকল্পনা থেকে রক্ষা করেছেন প্রণব মুখার্জি। হিলারি ক্লিনটন এবং তার পূর্বসূরী যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তণ পররাষ্ট্র মন্ত্রী জন কেরি উভয়েই ভাবতেন দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদরা বাংলাদেশকে পিছনে ঠেলে দিচ্ছে। ক্ষুদ্র ঋণের স্বপ্নদ্রষ্টা ও সামাজিক ব্যবসার প্রবক্তা নোবেল জয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতায় গেলে দেশটির উন্নয়ন হবে। এরপর পরই হিলারি, কেরির মদদ নিয়ে ২০০৬ সালে রাজনীতিতে প্রবেশের চিন্তায় বিভোর হয়ে ওঠে ইউনূস। যা আর পরবর্তীতে বাস্তবে রুপ নেয়নি।


বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দ একে একে ইউনূসকে সমর্থন দিতে থাকে। প্রথম দিকে প্রাক্তণ আইরিশ প্রেসিডেন্ট মেরি রবিনসন এবং পরে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনার খোলাখুলিভাবে ইউনূসকে সমর্থন দেয়। শেখ হাসিনা ও তার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বি বেগম খালেদা জিয়ার থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে ইউনূসকে তখন ‘ত্রাণকর্তা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছিলো।

hillary-and-dr-yunus২০১১ সালের মার্চে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর পদ থেকে ইউনূসকে সরিয়ে দেয়া হয়। ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পে নেতৃত্ব দেয়া এই ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি। এরপর ইউনূসের সমর্থনে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ ও মানবন্ধনের মতো কর্মসূচি পালিত হয়। এটি বলা হচ্ছিল যে, ইউনূসকে অপসারণের পর প্রতিবাদ জানিয়ে দেশব্যাপী যে আন্দোলনের সৃষ্টি হচ্ছিলো তা ছিলো হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পরিকল্পিত ‘কালার রেভ্যুলেশনে’র সূত্রপাত। সমসাময়িক অনেক দেশের ক্ষমতাসীনরা বিদেশ থেকে পরিচালিত এমন কয়েকটি জনপ্রিয় আন্দোলনের কারণে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন।


ইউনূস ইস্যুতে বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠ গরম হয়ে উঠলে, তৎকালীন ইউপিএ সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা প্রবণ মুখার্জি হিলারি ক্লিনটনের কাছ থেকে একদিন ফোন পেয়েছিলেন। হিলারি তখনকার ওবামা সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। প্রণব মুখার্জিকে ফোন করে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে নজিরবিহীনভাবে হস্তক্ষেপ করতে চেয়েছিলেন হিলারি, যা তার মতো বা তার পূর্বসূরীদের মতো পদাধিকারের অধিকারী ব্যক্তিদের সাথে একেবারেই বেমানান।

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের একাধিক সূত্রে জানা যায়, গ্রামীন ব্যাংক থেকে ইউনূসকে সরিয়ে দিতে শেখ হাসিনার পরিকল্পনার কথা প্রণবকে জানিয়ে তা বন্ধ করতে আকূল আবেদন জানিয়েছিলেন হিলারি। হিলারি প্রণবকে এই কথা বলে অনুরোধ করেছিলেন যে, তার উচিত ইউনূসকে সমর্থন দেয়া। প্রণব মুখার্জিকে সরাসরি ফোন দেয়ার মতো কূটনৈতিক ঝুঁকির বিষয়ে হিলারি উৎসাহ পেয়েছিলেন দুই দেশের পরমানু চুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক থেকে। প্রণব মুখার্জি তখন ভারতের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক মন্ত্রী এবং হিলারি ছিলেন নিউইয়র্কের একজন সিনেটর এবং ইন্ডিয়া সিনেট ককাসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।

একসূত্রে জানা যায়, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে প্রণব মুখার্জিকে হিলারি অনুরোধ করে এও বলেছিলেন যে ‘দীর্ঘমেয়াদে হাসিনার সাথে ভারতের সম্পর্ক নির্ভরযোগ্য হবে না এবং শেখ হাসিনার সরকার থেকে নয়াদিল্লীর দুরুত্ব আরও বৃদ্ধি করা উচিত। পাশাপাশি নতুন সরকার প্রধান হিসেবে সম্ভাবনাময় ব্যক্তিত্ব ইউনূসকে সমর্থন দিয়ে তার ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে মনোযোগ দেয়া উচিত।

প্রণব মুখার্জি এর কোনোটিই কানে নেননি। বরংচ তিনি শেখ হাসিনার প্রতি তার আস্থা ও বিশ্বাসে অটল ছিলেন।

দেশে ও বিদেশে, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও বিভিন্নভাবে শেখ হাসিনার সোর্স অনেক শক্তিশালী। সম্ভবত ওয়াশিংটনে ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের এক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এমন একটি বার্তা হাসিনা আগেই পেয়েছিলেন।এর খুব শীঘ্রই পরে হাসিনাও প্রণবকে ফোন করেছিলেন। সেখানে প্রণব হাসিনাকে এই কথা বলে আশ্বস্ত করেন যে, ‘ভারত সাংবিধানিকভাবে নির্বাচিত সরকারের পাশে থাকবে এবং এই বিষয় নিয়ে তার (হাসিনার) কোনো দুশ্চিন্তার কারণ নেই।’

এই ঘটনার পর, ঢাকার ক্ষমতার রদবদল করতে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের কালার রেভ্যুলেশনের উত্থানের চেষ্টার মতো ষড়যন্ত্র বারবার ব্যর্থ হয়েছে। এর কিছুদিন পরেই, গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ইউনূসের সরে যাওয়া নিয়ে বাংলাদেশের উচ্চ আদালত রায় প্রদান করে। চলতি সপ্তাহে ভারতের রাষ্ট্রপতিকে শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে হয়তো বিদায় জানাবেন কিন্তু ওই ঘটনা তিনি সব সময় মনে রাখবেন।

পরিবারের দুঃসময়ে হাসিনার সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ওয়াজেদ যখন নয়াদিল্লীতে স্কুলে পড়তেন, ভারতের রাষ্ট্রপতির প্রয়াত স্ত্রী শুভ্রা মুখার্জি ছিলেন তাদের কাছে দ্বিতীয় মায়ের মতো। ওই সময়ে সজীব ও পুতুলের সব অবসর সময়ের সার্বক্ষণিক সঙ্গি ছিলো শুভ্রা মুখার্জির তিন সন্তানের দুইজন অভিজিৎ ও শর্মিষ্ঠা।

দুই বছর আগে শুভ্রা মুখার্জির মৃত্যুর পর শেখ হাসিনা দেশের সব কিছু ফেলে শুভ্রা’র শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশ নেন। শোক সন্তপ্ত রাষ্ট্রপতির পাশে থেকে তাকে সান্ত্বনা দেন। ২০১০ সালে হাসিনা যখন নয়া দিল্লীতে গিয়েছিলেন, প্রণব মুখার্জি তখনই হাসিনাকে রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য বলেছিলেন। তার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়েই সফর হবে বলে হাসিনা তাকে বলেছিলেন। সাথে এ কথাও বলেছিলেন যে, নির্বাচনকে খুব সামনে রেখে ওই ভারত সফর থেকে তিনি খালি হাতে ফিরতে চান না। এই কথোপকথোনের মধ্যেই শেখ হাসিনার ভারত সফরের সব অর্জন বা ব্যর্থতার সব বিষয়ে প্রণব মুখার্জির ভূমিকার বিষয়টি নিহিত রয়েছে।

এসএস/বি


 


নিজস্ব সংবাদদাতাঃ

জাতীয় সংসদের শূন্য হওয়া পাঁচটি উপনির্বাচনে অংশ নেবে বিএনপি। এছাড়া আগামীতে সব নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।

 আজ রবিবার পাবনা-৪ আসনের উপনির্বাচনের জন্য মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছে দলটি। বিএনপি নেতারা বলছেন, এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়, এটা প্রমাণ করতেই নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

শনিবার বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে পাঁচটি আসনের উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা হয়। অধিকাংশ নেতা নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে একমত হন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রবিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাবনা-৪ আসনের উপনির্বাচনের জন্য দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়।

সোমবার দুপুর ২টার মধ্যে মনোনয়ন ফরম জমা দিতে হবে। সোমবার বিকেল ৫টা থেকে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে পাবনা-৪ আসনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হবে। 

এদিকে রবিবার এক আলোচনা সভায় বিএনপির উপনির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রশ্নবিদ্ধ ও হট্টগোল করার জন্য নয়, জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের জন্য বিএনপি আসন্ন পাঁচটি সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। আমরা অতীতে দেখেছি, বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য। আশা করি এবার সেই পথে হাঁটবে না। তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক, এটিই আমাদের কামনা।

এসএস/বি



 সদ্য সংবাদ ডেস্কঃ


 নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন স্থান এখন আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। 

নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লায় মাসে মাসে টাকা নিলেও হঠাৎ ময়লা নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে টাকা আদায়কারী প্রতিষ্ঠানগুলো। কবে ফের ময়লা নেয়া চালু হবে তাও জানায়নি তারা। এতে করে বিভিন্ন এলাকার বাসা-বাড়িতে ময়লা জমে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কিছু দিন পর পর নানা অজুহাতে বাসা বাড়ির বর্জ্য নেয়া বন্ধ করে দেয় তারা,তবে কোনো মাসে টাকা কম নেয় না।

দুই বছর ধরে জালকুড়ির লিংক রোডের পাশে সিটি করপোরেশন আবর্জনা ফেলা বন্ধ করে দিয়েছে, তারা এখন ফেলছে শহীদ নগর এলাকাতে।  জালকুড়িতে এতদিন ধরে আবর্জনা ফেলতো ফতুল্লা থানার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার ময়লা সংগ্রহকারীরা। 

জানা গেছে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের জালকুড়িতে ফতুল্লা থানার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার গৃহস্থালী বর্জ্য, ভ্যানগাড়ি দিয়ে কয়েকটি সংস্থা বাড়ি বাড়ি থেকে সংগ্রহ করে ফেলতো। বৃহস্পতিবার থেকে তারা ময়লা সংগ্রহ বন্ধ করে দিয়েছে বলে জানান বিভিন্ন এলাকার মানুষজন। এতে বসত বাড়িতে জমতে শুরু করেছে আবর্জনা। দেখা দিয়েছে গন্ধ। বসত বাড়িতে থাকাটাই দুস্কর হয়ে পড়েছে। তাছাড়া সবগুলো এলাকায় ময়লা আবর্জনা ফেলাও কার্যত বন্ধ। এসব কারণে চরম দুর্ভোগের শিকার লোকজন।

নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর বিভিন্ন স্থান এখন আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। শহরের উল্লেখযোগ্য মোড়গুলোতে পড়ে আছে আবর্জনার স্তূপ। নিয়মিত ও সঠিকভাবে পরিষ্কার করা হয় না বলে এসব আবর্জনা পচে উৎকট দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। একইসঙ্গে বেড়েছে মশা-মাছির উপদ্রব। বাসিন্দাদের কাছে নারায়ণগঞ্জ  এখন ‘ময়লা-আবর্জনার শহর’।

গত এক সপ্তাহে ঘুরে দেখা যায়, নগরীর ব্যস্ততম এলাকা তোলারামের মোড়,বাপ্পি স্মরণী,নিতাইগঞ্জ,দেওভোগ, কালিরবাজার,আমলাপারা,খানপুর হসপিটাল, মিশনপাড়া,জামতলা,মাজদাইর,ইজদাইর,দেওভোগ,গাপতলি ও চাষাড়া স্টেশন রোডের কোথাও কোথাও প্রধান সড়কের পাশেই পড়ে রয়েছে আবর্জনার স্তূপ।


 দিঘুবাবুর বাজার ও এর আশপাশের এলাকা দিয়ে যাতায়াত  প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে ।এই এলাকার ব্যাবসায়ী করিম বলেন,ময়লা-আবর্জনার কারণে বাসার বাইরে বের হতে ভয় লাগে। বাধ্য হয়ে বের হলে নাক-মুখ চেপে হাঁটতে হয়। তবুও গা ঘিন ঘিন করে, বমি পায়। বাজার ও হোটেল-রেস্তোরার আবর্জনা ফেলে রাখা হয়েছে যত্রতত্র। 

কিছু কিছু জায়গা থেকে বেলা ১১টার দিকে ট্রাকে ভরে আবর্জনা সরানো হচ্ছে। এতে পথচারীরা বিকট দুর্গন্ধের শিকার হচ্ছেন। সেই সাথে ১১টার দিকে ব্যস্ত সড়কের ওপর ট্রাক দাঁড় করিয়ে আবর্জনা পরিষ্কারের জন্য সৃষ্টি হচ্ছে যানজট।

সদর উপজেলার ফতুল্লা,কুতুবপুর ও এনায়েতনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বহুদিন ধরেই ময়লা নিচ্ছে না পরিচ্ছন্নকর্মীরা। এতে করে লাখ লাখ মানুষের বাড়ি, ঘরে ময়লা জমে একপ্রকার ময়লায় বন্দি হয়ে আছেন তারা।

এতে এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। এলাকাবাসির অভিযোগ, দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়া হলে ময়লার গন্ধে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হবে। পরিচ্ছন্নকর্মীদের দাবি, ময়লা ফেলার জায়গা না থাকায় তারা বাড়ি বাড়ি থেকে ময়লা নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

স্থানীয়রা বলেন, হঠাৎ আবর্জনা সংগ্রহ বন্ধ রয়েছে। এর আগেও কয়েকবার এমন হয়েছে। তবে এবার আবর্জনা সংগ্রহকারীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন কতদিন বন্ধ থাকবে সেটা নিশ্চিত না। এলাকবাসি জানান, বাসাবাড়ির ময়লা না নেয়ায় নানা সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার রাস্তায় রাস্তায় ময়লা জমে রয়েছে। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মেম্বারা যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেন তাহলে ময়লার গন্ধে বাদ্য হয়েই এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হবে। 

মহাসড়কের ওপর ফেলে রাখা হয়েছে হাসপাতাল ও শহরের বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক ও ল্যাবের ক্লিনিক্যাল বর্জ্য। নিয়মিত অপসারণ না করায় এসব বর্জ্য শহরের বাতাসকে বিষাক্ত করে তুলছে।


পরিচ্ছন্নকর্মীদের দাবি, ময়লা ফেলার জায়গা না থাকায় তারা বাড়ি বাড়ি থেকে ময়লা নেয়া বন্ধ করে ছিয়েছে। যেখানে আবর্জনা ফেলা হতো সেখানে ফেলতে নিষেধ করেছে পাশেই থাকা বিজিবি ক্যাম্পের লোকজন। তাই ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকা থেকে আবর্জনা সংগ্রহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।       

কুতুবপুর ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু বলেন, ময়লা ডাম্পিংয়ের জন্য সরকার আমাদের কোন জমি দেয়নি এবং আমাদের কাছে ময়লা ডাম্পিংয়ের কোন বরাদ্দ নেই। তাই কিছু করার নাই। তিনি আরো জানান, ইউনিয়নের ময়লা ফেলার জন্য ফতুল্লা রেলস্টেশনের পাশে জাবেদুল্লা ফ্যাক্টরির পেছনে ময়লা ফেলার কথা ছিল। কিন্তু এই জায়গার এলাকাবাসী মামলা করে বন্ধ করে দিয়েছে।দুর্গন্ধের জন্য  বিজিবি ক্যাম্প থেকেও ময়লা ফেলা নিষেধ করা হয়েছে।

নগরবাসীর অভিযোগ, বছরজুড়ে এভাবেই আবর্জনা অপসারণ করা হয়। এ নিয়ে সিটি কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দেওয়া হলেও তারা নির্বিকার।

নারায়ণগঞ্জ সিটি -মেয়র ড. সেলিনা হায়াত আইভী বলেন, ৩৩ দশমিক ৫৭ বর্গকিলোমিটার আয়তন ও প্রায় ষোল লাখ মানুষের এ শহরে জনবল ও যানবাহন সংকটের কারণে ময়লা-আবর্জনা সরানোর কাজে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

এসএস/বি


 সদ্য সংবাদ ডেস্কঃ  

সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাংরোডে রেন্টএকার মালিক সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক রেন্টএকারের চাঁদা কালেকটর সালাউদ্দিনের চাঁদাবাজির কারণে রেন্টএকার মালিক ও শ্রমিকরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে যে কোন সময় সংঘর্ষের আশংকা করছেন মালিক ও শ্রমিকরা।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে মালিক ও শ্রমিকরা একজোট হয়ে সালাউদ্দিনকে চাঁদা দিবেনা মর্মে অঙ্গীকার করে। রেন্টএকারের প্রতিটি গাড়ির জন্য সালাউদ্দিন ১৪০০ টাকা করে চাঁদা কালেকশন করে।

রেন্টএকার মালিক ও শ্রমিকদের অভিযোগ চাঁদা আদায় করে সালাউদ্দিন আত্মসাত করছে। যার ফলে সিদ্ধিগঞ্জে বিভিন্ন স্থানে রেন্টএকারের গাড়ি চালকরা সালাউদ্দিনের কারণে বিড়ম্বনায় হয়ে পড়ছে। প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদা কালেকশন করে সালাউদ্দিন।

গাড়ির মালিক ও চালকরা অভিযোগ করেন লকডাউনের কারণে রেন্টএকার বন্ধ ছিল, জমানো টাকা পয়সা যা ছিল এবং দারদেনা করে তারা নিঃশ্ব হয়েছে। এখন আর তারা কোনভাবেই সালাউদ্দিনকে চাঁদা দিবেনা। গাড়ির মালিক আনু, মাইনুদ্দিন, লিটন মিস্ত্রি, শফিক, টিটু, জলিল, তুহিন, খোকন, সবুজ, সুমনও শরীফসহ গাড়ির মালিক ও চালকরা অভিযোগ করেন বিএনপি,পন্থি চাঁদাবাজ সালাউদ্দিনকে আমরা আর রেন্টএকারে কোনভাবেই চাঁদাবাজি করতে দেবনা এ জন্য তারা থানা আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মামুন আহমেদ জয়,আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি :

 নারায়ণগঞ্জ আড়াইহাজারে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম বাবুর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে আপত্তিকর ও মানহানিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে কাউছার আহমেদ পলাশ (২৮) নামের এক আওয়ামী লীগ কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 


শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত্রে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত পলাশ উপজেলার ডোমারচর গ্রামের জামানের ছেলে। সে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল পারভেজের কর্মী।

আড়াইহাজার থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) কাজী সালেহ আহমেদ জানান, গ্রেপ্তারকৃত পলাশ ফেইসবুকে বেশ কয়েকটি আইডির মাধ্যমে এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মন্তব্য করে থাকেন। যার ফলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 এর আগে শুক্রবার বিকালে সরকারী সফর আলী কলেজের ভিপি নিহাদুল ইসলাম রাজু বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। শনিবার তাকে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ।

   


      মো: মামুন আহমেদ (জয়),আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি। 

আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় এস.এস.সি.ব্যাচ- ২০১৭'র পুর্ণমিলনী ও নৌকাভ্রমনের আয়োজন করে স্কুলের ছাত্র শিক্ষক সমন্বয়ে।

 ২৭ অাগষ্ট কালাপাহাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ঘাট থেকে সকাল ৯:৩০ মিনিটে ট্রলার যোগে মেঘনা নদী দিয়ে স্বপ্ন দ্বীপের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।

বিখ্যাত সঙ্গীত 'ওরে নীল দরিয়া, আমায় দেরে দে ছাড়িয়া । একটার পর একটা নদীকেন্দ্রিক বাংলা গান ব্যতিক্রমী অনুভূতির সঞ্চার করে।

পরে আড়াইহাজার বিশনন্দী ফেরিঘাটে অবস্থান করে ফেরিঘাটে দুপুরের খাবার শেষ করে আবারও যাত্রা শুরু করে তারা।

স্বপ্ন দ্বীপে পৌছে ঘুরাঘুরি,  ফুটবল খেলা শেষে গোসল করে বাড়ি ফিরার উদ্দেশ্যে ট্রলার ছাড়ে ,স্বপ্ন দ্বীপ থেকে সরাসরি পূর্বকান্দী সাহেব বাজারের পাশ দিয়ে মধ্যারচর ও চরলক্ষ্মীপুর হয়ে ইজারকান্দী বাজার ঘাট এসে ট্রলার থামেন এবং নৌকা ভ্রমন সমাপ্তি হয়। 

প্রায় পাঁচ ছয় ঘণ্টার ভ্রমণ শেষে আবার ঘাটে ফেরা। অপরূপ  অালো আধারির খেলা ,চাঁদ তখন আরও বেশি মায়া ছড়িয়ে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে রয়েছে মায়ার মধ্য গগনে।


এসএস/বি




সদ্য সংবাদ ডেস্কঃ 

সোনারগাঁ উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে যুবদলের আহবায়ক কমিটি ঘোষনা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট পিরোজপুর, বারদী ও নোয়াগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের ২১ সদস্য বিশিষ্ট পৃথক আহবায়ক কমিটির অনুমোদন দেন সোনারগাঁ উপজেলা যুবদলের আহবায়ক সহিদুর রহমান স্বপন ও সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আশরাফ ভূইয়া। 

নোয়াগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের ২১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটিতে আহবায়ক আতাউর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আতাউর রহমান আপেল, যুগ্ম আহবায়ক ওমর ফারুক, ছানাউল্লাহ, নাজমুল ফকির, মো: হাফিজুল্লাহ, মোঃ রিপন, মো: হৃদয় হাসান, মো: আইয়ুব ও মো: মোজাম্মেল। সদস্য করা হয়েছে কবির হোসেন, মো: রিপন, মো: রাজিব, মো: ইয়ামিন ভূইয়া, মোঃ বাবুল, একেএম মুস্তাফিজুর রহমান, মোঃ আঃ আউয়াল, মো: মনির মিয়া, মানিক মিয়া, জয়নাল আবেদীন , মো: সিরাজ।

বারদী ইউনিয়ন যুবদলের ২১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটিতে আহবায়ক আব্দুল আলী, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মো: সানোয়ার, যুগ্ম আহবায়ক আনোয়ার হোসেন, জাইদুল, হারুন মিয়া, দেলোয়ার হোসেন দুলু, নজরুল ইসলাম, কামাল হোসেন, হারুন, সজিব ও ইব্রাহিম মিয়া। সদস্য করা হয়েছে আক্তার হোসেন, লতিফ মিয়া, তোফাজ্জল হোসেন, কামাল হোসেন, রুবেল হোসেন, আমান, আঃ জব্বার, মজিবুল্লাহ ও শাহাদাত হোসেন।


পিরোজপুর ইউনিয়ন যুবদলের ২১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটিতে আহবায়ক মোঃ মোরশেদ আলম, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আল আমিন বেপারী, যুগ্ম আহবায়ক সানোয়ার, আরিফ প্রধান, শাহিনুর রহমান, সানোয়ার হোসেন, আবু আক্কাস, বাদল, জাফর আলী, নজরুল ইসলাম সেন্টু ও সবুর খান। সদস্য করা হয়েছে নুর মোহাম্মাদ, নুরুজ্জামান, জাকির হোসেন, মোঃ জামান, জুয়েল, আনোয়ার, নজরুল ইসলাম, কামাল হোসেন, আয়নাল হক ও আনোয়ার হোসেন।


এসএস/বি



নিজস্ব প্রতিনিধিঃ    

নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার স্কুল ছাত্রী মৃত জিসা মনি জীবিত ফিরে আসার ঘটনায় সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসাদুজ্জামান ও মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি) অপারেশন আব্দুল হাইকে আদালতে তলব করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামি আব্দুল্লাহর আইনজীবী এড. রোকন উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।


তিনি বলেন, আগামী ৩১ আগস্ট স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে ‘জীবিত জিসা মনি কিভাবে মৃত হলো, মৃত থেকে আবার কিভাবে জীবিত ফিরে এলো, এবং কেন ১৬৪ করা হলো। কেন এই মামলা এখনও নথি ভুক্ত করা হয় নাই। এ বিষয়গুলি আদালতে ব্যখ্যা দেয়ার জন্য তাদের  তলব করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২টায় নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ কাওসার আলমের আদালতে এ নির্দেশ প্রদান করেন। একই সাথে গ্রেপ্তার চার আসামির জামিন আবেদন চাওয়া হয়। এডঃ রোকন উদ্দিন বলেন, আদালত শুনানি শেষে এই মামলার আরেক আসামি জিসার স্বামী ইকবালের রিমান্ড শুনানি ও বাকি আসামিদের জামিন শুনানি ৩১ আগষ্টের দিন হবে বলে আদেশ দেন।

গত ৪ জুলাই ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী শহরের দেওভোগের বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। তাকে না পেয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় জিডি ও মামলা করে তার পরিবার। ওই মামলায় পুলিশ আব্দুল্লাহ, রকিব ও নৌকার মাঝি খলিলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ৯ অগাস্ট তারা আদালতে জবানবন্দি দেন। সেখানে তারা ‘অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যা করে লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার’ দায় স্বীকার করেন। ওই মামলার তদন্তকর্মকর্তা ছিলেন এসআই শামীম আল মামুন।

এদিকে ঘটনার ৫১ দিন পর ২৩ অগাস্ট ওই কিশোরী মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তাকে এনে পুলিশ সোর্পদ করে পরিবারের লোকজন। আদালতের নির্দেশে মেয়েটি এখন পরিবারের জিম্মাতেই আছে।

 সদ্য সংবাদ ডেস্কঃ


  দৈনিক বাংলাদেশের আলো পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মফিজুর রহমান খাঁন বাবু'র রোগমুক্তি কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ ২৬ আগস্ট বাদ আছর দৈনিক বাংলাদেশের আলো পরিবার নারায়ণগঞ্জ এর উদ্যোগে,সোনারগাঁও উপজেলার ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়কের মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় অবস্থিত আল মদিনা টাওয়ারের পঞ্চম তলায় সোনারগাঁ জার্নালিস্ট ক্লাবে এই দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

দোয়া পরিচালনা করেন উপজেলার তাহেরপুর আলিয়া মাদ্রাসার প্রভাষক ইব্রাহিম খলিল।

উক্ত দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের আলো পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ মফিজুর রহমান খাঁন বাবুর সুস্থতা সহ, তার পরিবার ও দৈনিক বাংলাদেশের আলো পরিবারের সকল সদস্যদের সুস্বাস্থ্য কামনা করে দোয়া চাওয়া হয়।

 দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন, দৈনিক বাংলাদেশের আলো প্রত্রিকার নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ,সোনারগাঁ জার্নালিস্ট ক্লাবের সভাপতি ও উপজেলা একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শেখ এনামূল হক বিদ্যুৎ, সোনারগাঁ জার্নালিস্ট ক্লাবের সহ-সভাপতি মোঃ ফারুকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শওকত ওসমান সরকার রিপন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সামির সরকার সবুজ, যুগ্ম সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব, অর্থ ও দপ্তর সম্পাদক নূর মোহাম্মদ সুজন,মাজারুল রাসেল,  দৈনিক বাংলাদেশের আলো প্রত্রিকার বন্দর প্রতিনিধি মোঃ মনির হোসেন ও নারায়ণগঞ্জ টিভির চেয়ারম্যান মোঃ নুরনবী সহ প্রমুখ।

এসএস/বি

সদ্য সংবাদ ডেস্কঃ 

নারায়ণগঞ্জের জালকুড়িতে অবস্থিত আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সামনে থেকে দালাল চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। 

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বেলা ১২টায় গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে, আল আমিন, জিসান, মাসুদুর রহমান , আফজাল ইসলাম ওরফে পারভেজ, আনিসুজ্জামান রাশেদ, রিয়াদ হোসেন, মেহেদী হাসান।

বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিবি পুলিশের কর্মকর্তারা। এসময় এএসপি জাহেদ পারভেজ বলেন, পাসপোর্ট অফিসের সামনে থেকে দালাল চক্র নির্মূল করার লক্ষ্যে আমরা অভিযান পরিচালনা করেছি।  অফিসের আশপাশ থেকেই দালাল চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। এরা বিভিন্ন ডাক্তার ও উর্ধতন কর্মকর্তাদের সিল জাল করে তা ব্যবহার করে আসছিলো।

তিনি আরও বলেন, ডিবির এসআই খোকন চন্দ্র সরকারের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ৫টি পাসপোর্ট, ২টি ল্যাপটপ, ২টি ডেস্কটপ, ১টি প্রিন্টার, ২টি ভুয়া সিল ও নগদ ৭৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। সিল দুটি দুজন সরকারি ডাক্তারের নাম লেখা থাকলেও আমরা জেলা সিভিল সার্জনের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছি এই নামে কোন ডাক্তার নারায়ণগঞ্জে কর্মরত নেই।  

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


এসএস/বি

 সদ্য সংবাদ ডেস্কঃ

  নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানাধীন মদনপুরস্থ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থিত রাফি ফিলিং স্টেশন এর সামনে পাকা রাস্তার উপর চেকপোষ্ট স্থাপন করে ফেনী থেকে ঢাকাগামী একটি বাসে তল্লাশী করে ২,৬০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারসহ তিন জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১ । 

গ্রেফতারকৃতরা হলেন মোঃ আব্দুল হান্নান শাহীন (৪৬), মোঃ শাজাহান সরদার @ সাজু মিয়া (৩৮), মোছাঃ সুরাইয়া আক্তার মীম (২৭)। ২৪ আগস্ট রাতে র‌্যাব-১১ ( সিপিএসসি নারায়ণগঞ্জ) বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।

মঙ্গলবার ( ২৫ আগস্ট) দুপুরে র‌্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( সিপিএসসি আদমজীনগর) মোঃ জসিম উদ্দীন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

তিনি জানান, গ্রেফতারকৃতদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায় তারা পেশাদার মাদক পাচারকারী। গ্রেফতারকৃত মাদক ব্যবসায়ী মোঃ আব্দুল হান্নান শাহীন এর বাড়ি চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ থানাধীন লাওতলী এলাকায় এবং মোঃ শাজাহান সরদার সাজু মিয়া (৩৮) ও মোছাঃ সুরাইয়া আক্তার মীম এর বাড়ি শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ থানাধীন পাপরাইল এলাকায়। গ্রেফতারকৃত আসামীরা আরোও স্বীকার করে তারা পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন যাবৎ আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য মোঃ শাজাহান সরদার সাজু মিয়া ও তার স্ত্রী মোছাঃ সুরাইয়া আক্তার মীম আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ফেনী জেলা হতে অভিনব কায়দায় ও সুকৌশলে বাসে পারিবারিক ভ্রমনের ছদ্মবেশে নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য (ইয়াবা ট্যাবলেট) ক্রয় করে নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা জেলা ও এর আশপাশের এলাকায় মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রয় ও সরবরাহ করে আসছে। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

এসএস/বি



সদ্য সংবাদ ডেস্কঃ  

নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁওয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে, যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে চারটি গোডাউন ও তিনটি দোকান থেকে ৯ হাজার ৩ শত ৫৯ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে। এসময় গোডাউন ও দোকানের তিন মালিককে পৃথক ভাবে মোট ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। 

আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল থেকে একনাগাড়ে বিকাল ৩টা পর্যন্ত র‌্যাব-১১, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর ও সোনারগাঁও উপজেলা প্রশাসন উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা কাঁচাবাজারে চারটি গোডাউন ও তিনটি দোকানে এই অভিযান চালায়।

এতে যৌথভাবে নেতৃত্ব দেন, 

র‌্যাব-১১ এর এএসপি মোস্তাফিজুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ সাইদ আনোয়ার, সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আতিকুল ইসলাম ও সোনারগাঁও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল মামুন।

এসময় ভ্রাম্যমাণ আদালত সরকারের নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন অবৈধভাবে গোডাউনে মজুদ ও বিক্রির অপরাধে উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা কাঁচাবাজারের মোঃ হাবিবের মালিকানাধীন আল আমিন এন্ড ব্রাদার্স নামের একটি দোকান ও তিনটি গোডাউনকে ২ লাখ, মেসার্স হাবিব ষ্টোর নামে একটি দোকান ও একটি গোডাউনের মালিক মোঃ হাবিবকে ১ লাখ ও গাফ্ফার ষ্টোরের মালিক গাফ্ফারকে ২০ হাজার টাকা নগদ জরিমানা করে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আতিকুল ইসলাম ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল মামুন।

র‌্যাব-১১ এর এএসপি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা অবৈধভাবে নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন মজুদ করা গোডাউনে এই অভিযান চালায়।

তিনি বলেন, জেলার বিভিন্ন স্থানে তারা অবৈধভাবে পলিথিন বাজারজাত করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ও সোনারগাঁও উপজেলা প্রশাসনের  ম্যাজিস্ট্রেটদ্বয়ের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্বদানকারী সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মোঃ আতিকুল ইসলাম বলেন, এরা দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিনের ব্যবসা করে আসছিলেন। নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


এসএস/বি 

সদ্য সংবাদ ডেস্কঃ  

নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁও উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বাড়ী মজলিস এলাকায় সাবেক স্বামীর হাতে আঁখি আক্তার (২৬) নামের এক নারী খুন হয়েছেন।

আজ (২৫ আগষ্ট) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বাড়ি মজলিশ এলাকায় সলিমুল্লাহ মিয়ার ভাড়াটিয়ার রুমে এ ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা ইনচার্জ রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের ফরেনসিক বিভাগের সিআইডির একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহত আঁখির লাশ ময়না তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা মর্গে প্রেরণ করে।হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। 

সাবেক স্বামী রুবেল (৩০) শম্ভুপুরা ইউনিয়নের মুগারচর এলাকার মফিজুলের ছেলে।

রুবেলের এক দুঃসম্পর্কের আত্মীয় নিপা আক্তার জানান, মঙ্গলবার সকাল ১১টা দিকে রুবেল তার সাবেক স্ত্রী আঁখিকে নিয়ে আমার বাড়িতে আসে।

তারা জানান, দুজনের মধ্যে যে ভুল বোঝাবুঝি আছে তা কথা বলে মিমাংসা করবেন। সেজন্য তারা আমার ঘরে বসতে চায়। আমি পূর্ব পরিচিত বিধায় তাদের ঘরে বসতে দিয়ে আমি বাড়ির ছাদে চলে যাই। ছাদ থেকে ফিরে রুমে প্রবেশ করার সময় আমি কিছু বুঝে উঠার আগেই রুবেল আমাকে ধাক্কা দিয়ে রুম থেকে বের হয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে রুমে গিয়ে দেখি তার স্ত্রী আঁখির গলাকাটা লাশ পড়ে আছে।

এ ঘটনায় আমি কিছুক্ষনের জন্য বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ি। পরে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা বাজারে গিয়ে রুবেলের বাবা মফিজুলকে বিষয়টি জানাই। পরে দু’জনই থানায় গিয়ে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করি। নিপা আরো জানান, একই এলাকার হাবিবপুর ভাড়া থাকার সময় রুবেলদের সাথে তাদের পরিচয় হয়। সেই সুত্র ধরেই আজ সকালে সে আমার বাড়িতে আসে তার সাবেক স্ত্রীর সাথে কথা বলবে বলে।

পুলিশ জানান, রুবেলের সাথে গত ৬ বছর আগে বিয়ে হয় বন্দর উপজেলার বাদুরী এলাকার নজরুল ইসলামের মেয়ে আঁখির সাথে। তাদের দাম্পত্য জীবনে হোমাইরা নামের একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। গত ৩ মাস আগে পারিবারিক কলহের জের ধরে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। মঙ্গলবার সকালে তাকে একটি বাসায় ডেকে নিয়ে এসে গলা ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করে সে পালিয়ে যায়।

পুলিশ আরো জানায়, হত্যার নমুনা দেখে মনে হচ্ছে আঁখিকে ডেকে এনে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ রুবেলের পিতা মফিজুল ও নিপাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সোনারগাঁ থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, বাড়ি মজলিশ এলাকা থেকে এক নারীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। তদন্তের জন্য নিপা আক্তার ও রুবেলের বাবাকেও আটক করা হয়েছে।

এসএস/বি

 


সদ্য সংবাদ ডেস্কঃ

  সোনারগাঁ উপজেলার বারদী ইউনিয়নের নুনেরটেক এলাকা ঘেষে মেঘনা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন করার অপরাধে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ১৪ জন ড্রেজার শ্রমিককে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন সোনারগাঁও। 

এ সময় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার আল-মামুন, সোনারগাঁ থানা পুলিশের সেকেন্ড অফিসার পঙ্কজ ক্রান্তি সরকার এস আই আঃ রবসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলার বারদী এলাকার নুনেরটেক ঘেঁষে কিছু বালু সন্ত্রাসীরা মেঘনা নদীর তলদেশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নুনেরটেক এলাকার কয়েকটি গ্রাম ও ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। বাকি গ্রামগুলো ভাঙ্গনের মুখে। এ নিয়ে স্থানীয় গ্রামবাসী বালু সন্ত্রাসীদের বাঁধা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়েকবার ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেলেও তারা বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে।

বালু কাটা বন্ধে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকালে সোনারগাঁ উপজেলার নুনেরটেক এলাকায় মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন কালে হাতেনাতে ৬জনকে আটক করে উপজেলা প্রশাসন। পরে আবার অভিযান চালিয়ে পালিয়ে যাওয়া আরো ৮ জনকে আটক করা হয়।

আটক কৃতদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে সাজা প্রদানের  প্রস্তুতু চলছে। অপরাধের ধরন অনুযায়ী ৫ মাস থেকে সর্বোচ্চ ২বছরের কারাদণ্ড সহ অর্থ জরিমানাও হতে পারে। 

আটককৃতরা হলেন, রিয়াজুল, সেলিম হোসেন, আঃ মান্নান, জয়নাল আবেদীন, কবির, জহিরুল, নুর আলম, সফিক বেপারি,  মাহবুব, ফখরুল ইসলাম, জামান, সুমন,লোকমান শেখ ও মো. রাজীব।

এসএস/বি

সদ্য সংবাদ ডেস্কঃ


নারায়ণগঞ্জে ১৫ বছরের এক কিশোরীকে অপহরণ করে গণধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে—তিন আসামি আদালতে এমন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিই দিয়েছিলেন। এই ঘটনায় তিনজনই কারাগারে আছেন। অথচ ৫১ দিন পর সেই কিশোরীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। কিশোরী এখন একজনকে বিয়ে করে সংসার করছে।


নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান এ বিষয়ে  বলেন, ওই কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে সপ্তাহ দুয়েক আগে তিন আসামি অটোরিকশা চালক রকিব (১৯), আব্দুল্লাহ (২২) ও মাঝি খলিল (৩৬) আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। নিখোঁজ হওয়ার ৫১ দিন পর মেয়েটি বাড়িতে টাকা চেয়ে ফোন করলে পরিবারের সবাই নিশ্চিত হন, মেয়েটি বেঁচে আছে। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ রোববার কিশোরীকে উদ্ধার করে। ওই কিশোরীর স্বামী ইকবালকে আটক করা হয়েছে। ইকবাল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশে জানিয়েছেন, তাঁরা বিয়ে করে বন্দর এলাকায় একটি বাড়িতে বসবাস করছেন।


যে মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে তিন আসামি স্বীকার করেছেন, সেই মেয়ে জীবিত আছে। তাহলে তাঁরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন কেন? এমন প্রশ্ন এখন মুখে মুখে।

ওসি আসাদুজ্জামান, নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার পুলিশ বলছে, গত ৪ জুলাই শহরের দেওভোগ এলাকার বাড়ি থেকে বের হয়ে ওই কিশোরী নিখোঁজ হয়। তাকে না পেয়ে প্রায় মাসখানেক পর ৬ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অপহরণ মামলা করেন তার বাবা। মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, আসামি আব্দুল্লাহ তাঁর মেয়েকে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে উত্ত্যক্ত করতেন। গত ৪ জুলাই আব্দুল্লাহ ও তাঁর সহযোগীরা মেয়েকে অপহরণ করেছেন।


মামলার পর পুলিশ ওই মেয়ের মায়ের মুঠোফোনের কললিস্ট চেক করে অটোরিকশা চালক রকিবের সন্ধান পায়। ওই নম্বর দিয়ে আব্দুল্লাহ মেয়েটির সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। ঘটনার দিনও ওই নম্বর দিয়ে ফোন করেন আব্দুল্লাহ। এ ঘটনায় পুলিশ অটোরিকশা চালক রকিব, আব্দুল্লাহ ও খলিলকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁরা নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন হোসেন ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ হুমায়ুন কবিরের পৃথক আদালতে ওই কিশোরীকে গণধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।


এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার (এসপি)জায়েদুল আলম, সদ্য সংবাদ ডট কম কে জানান,

গণধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে ৩ আসামীর জবানবন্দীর পরও ভিকটিম উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে এ কমিটি গঠন করা হয়। সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এডিশনাল এসপি ডিবিকে প্রধান করে কমিটিতে রাখা হয়েছে সহকারী পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) ও ডিআই-১কে।

এসএস/বি


মামুন আহমেদ জয়, আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ 

বঙ্গবন্ধুর জম্ম না হলে আমরা বাংলাদেশের মানুষ কখনোই পরিচয় দিতে পারতাম না। বঙ্গবন্ধু একটি সংগ্রাম। একটি ইতিহাস। পাকিস্তানীদের অত্যাচার-নিপীড়নের বিরুদ্ধে সারাজীবন যিনি সংগ্রাম করেছেন,যিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন বাংলার মানুষদের অত্যাচার-নিপীড়ন থেকে বাঁচাতে হবে। আমার মায়ের ভাষায় কথা বলতে হবে, তিনি চিন্তা করেছিলেন।তারই নাম বঙ্গবন্ধু। আগস্ট মাসে স্বাধীনতার পরাজিত সৈনিকরা। পাকিস্তানের ‘পা’ চাটা কুত্তারা নৃসংশভাবে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিলেন।

 বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে আজ সোমবার উপজেলা শাখার উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধা এস.এম মাজহারুল হক অডিটরিয়ামে আয়োজিত আলোচনা সভা, মিল্লাদ মাহফিল ও কাঙ্গালিভোজ অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। 

প্রধান আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-২, আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু। 

প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির আড়াইহাজার উপজেলা শাখার সভাপতি মো. লোকমান হোসেনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান মুজাহিদুর রহমান হেলো সরকার, আড়াইহাজার  পৌরসভার মেয়র সুন্দর আলী, গোপালদী পৌরসভার মেয়র আব্দুল হালিম সিকদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদ সিরাজুল ইসলাম ভূঁইয়া, আড়াইহাজার সরকারি সফর আলী কলেজের সাবেক ভিপি মুজ্জামেল হক জুয়েল, সাবেক ভিপি নাঈম আহমেদ মোল্লা, সাবেক ভিপি আমির হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান সরকার, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা আক্তার, আড়াইহাজার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যায়ের সহকারি শিক্ষক মাহাবুব ও জাহাঙ্গীর আলম প্রমূখ।


সদ্য সংবাদ ডেস্কঃ  

ফজরের আযান হয়ে গেছে তখন। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বন্দরের একটা বাড়ির সবাই জেগে আছে। বিশেষ করে রাত থেকেই নামাযে বসে আছেন প্রতীক্ষারত এক মা। ছেলে তার ঘরে ফিরবে। শনিবার ভোর পাঁচটায় সেই প্রতীক্ষার প্রহর ফুরায় গাড়ির শব্দে।

বন্দরের শাহি মসজিদ এলাকায় গাড়িটি থামতেই সশব্দ কোলাহোল শোনা গেল, রায়হান এসেছে। যাকে ঘিরে এতো অপেক্ষা, সেই রায়হান কবির গাড়ি থেকে নেমেই দ্রুত বাড়ির দিকে হাঁটা শুরু করল। ততোক্ষণে মাও বেরিয়ে এসেছেন। মাঝপথেই যেন ছেলে অনেকটা ঝাঁপিয়ে পড়ল মায়ের বুকে। এরপর শুধুই কান্নার শব্দ।

পৃথিবীর কোনো কোনো কান্নার দৃশ্যে এতো ভালোবাসা থাকতে পারে, সেটা কাছ না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। মা আর ছেলে পরস্পরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে। কাঁদছে রায়হানের বোন। দূর থেকে দেখছে বাবা। আশেপাশের মানুষ কাঁদছে। মিনিট চারেকের সেই কান্না থামাল রায়হানই। বলল, প্রতিবাদী রায়হানের মা কেন কাঁদবে?

আনন্দের এই কান্নার জন্য রায়হানের ভ্রমণ শুরু হয়েছিল শুক্রবার রাত ৯ টায় কুয়ালালামপুর থেকে। রাতেই যে দেশে ফিরতে পারবেন, সেই বার্তাটি রায়হান পেয়েছিলেন শুক্রবার সকালে। এর আগে ২৭ দিন তাকে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন পুলিশের হেফাজতে থাকতে হয়। তার আগে আরও ২১ দিন থাকতে হয়েছিল কিছুটা আত্মগোপনে। রায়হানের সঙ্গে চার ঘণ্টার সাক্ষাৎকারে এই পুরো সময়ের ঘটনাগুলো উঠে এসেছে।

৩ জুলাই আল জাজিরার ‘লকডআপ ইন মালয়েশিয়ান লকডাউন-১০১ ইস্ট’ শীর্ষক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন থেকে উত্তেজনার শুরু। মালয়েশিয়ায় থাকা প্রবাসী শ্রমিকদের প্রতি লকডাউন চলাকালে দেশটির সরকারের নিপীড়নমূলক আচরণের বিষয়টি উঠে আসে। তাতে ক্ষুব্ধ হয়ে মালয়েশিয়া। ওই প্রতিবেদনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রায়হান বলেন, মালয়েশিয়া সরকার বৈষম্যমূলক আচরণ করছে প্রবাসীদের প্রতি। ক্ষুব্ধ হয়ে মালয়েশিয়ার পুলিশ তার বিরুদ্ধে সমন জারি করে। ২৪ জুলাই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

১৪ দিন জিজ্ঞাসাবাদের পর ৬ আগস্ট পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করে। এরপর ফের ১৩ দিন মঞ্জুর করেন। বুধবার রিমান্ড শেষ হওয়ার পর পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। এরপরই ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

রায়হানকে শুক্রবার সকালে জানানো হয়, রাতের ফ্লাইটে তাকে ঢাকায় পাঠানো হবে। শুরু হয় দেশে ফেরার প্রস্তুতি। প্রথমে আইনজীবী এবং পরে হাইকমিশনের কর্মকর্তারা আসেন।

রাত ৯টায় তাকে নিয়ে ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তারা কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিকে রওনা হন। সব প্রক্রিয়া শেষ করে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি অপেক্ষা করতে থাকেন ফ্লাইটের জন্য।

মালয়েশিয়ার বিমানবন্দরে ফ্লাইটের জন্য যখন অপেক্ষা করছিলেন রায়হান, তখন অদ্ভুত এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন।

রায়হান বলেন, ‘আমার গায়ে একটি শার্ট ছিল। ওই এক শার্টে গ্রেপ্তারের ৩০ দিন কেটে গেছে। শার্টটা বিভিন্ন জায়গায় ছিঁড়ে গিয়েছিল, অবস্থা খারাপ, ময়লা, মুখে মাস্ক পরা। কেউ বুঝতেই পারেনি, ওইটা আমি। স্বস্তিতে শ্বাস নেওয়ার জন্য মুখের মাস্ক খুলে ফেললে কেউ একজন চিনে ফেলে এবং চিৎকার করে বলে উঠে, রায়হান কবির। ওই সময় বিমানের লাইনে দাঁড়ানো এক-দেড় শ লোক হুমড়ি খেয়ে আমার ওপরে এসে পড়ে। তারা ভিডিও, ছবি তুলতে শুরু করে।’

‘মুহূর্তেই আরও অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি জড়ো হয়ে যান। সবাই আমার সঙ্গে ছবি তুলতে থাকেন। প্রবাসীরা আমাকে বলেন, রায়হান ভাই আপনি আমাদের সব কষ্টের কথা বলেছেন। যে কথাগুলো কেউ বলতে পারেনি আপনি বলে দিয়েছেন। একজন এসে তার একটা নতুন শার্ট জোর করে আমাকে পরিয়ে দিয়ে যায়। আমি এই ভালোবাসার আনন্দ বলে বোঝাতে পারব না। আমি যে টানা এক মাস কষ্টে ছিলাম সব কষ্ট আমার তখনি দূর হয়ে গেছে।

শুক্রবার দিবাগত রাত ১টায় মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসের এমএইচ-১৯৬ ফ্লাইটে ঢাকায় নামেন রায়হান। ঢাকা বিমানবন্দরেও প্রবাসীরা তাকে শুভেচ্ছা জানান। বিমানবন্দরের ভেতরের পুলিশ কর্মকর্তারাও তার সঙ্গে ছবি তোলেন। এমনকি, যে কর্মকর্তা তার ইমিগ্রেশন করিয়েছেন তিনিও শেষ করে তার সঙ্গে ছবি তুলেছেন।

বিমানবন্দরে সব প্রক্রিয়া শেষ করে রাত ২টায় বেরিয়ে আসেন রায়হান। ছেলেকে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা শাহ আলম। বাবা-ছেলের পরস্পরকে জড়িয়ে ধরে থাকার সেই ক্ষণটি স্পর্শ করবে যে কাউকে।

বাবা শাহ্ আলম এ সময় বলেন, ‘কাউকে তো বলতে পারিনি কতোটা চিন্তায় ছিলাম। ছেলেটা কী অবস্থায় আছে? কেমন আছে? এ দেড়টা মাস কিভাবে কেটেছে এটা বলে বোঝানোর মতো না। আমার কাজে ভুল হতো, ঘুম হতো না । আশা ছিল ছেলেকে যেন ফিরে পাই। এখন ছেলেকে পেয়েছি আমার সব দুঃখ, দুশ্চিন্তা শেষ।’

বিমানবন্দরেই রায়হানকে বাবা জানালেন, টিফিন ক্যারিয়ারে করে খাবার পাঠিয়েছেন তার মা। টিফিন বক্স খুলতেই খাবার দেখে খুশি রায়হান। মা ইলিশ মাছ ও চিংড়ি ভুনা পাঠিয়েছেন। খাওয়া-দাওয়া শেষে গাড়িতে করে রায়হান ছুটল তার ঠিকানায়।

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় রায়হানের বাড়ি। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাড়ির দিকে রওনা হলো। দুই পাশের সবকিছুই মুগ্ধ চোখে দেখছিল রায়হান। যেন এই দেশ, মাটি সবকিছুর গন্ধ নিতে চায় ছেলেটি। এর মধ্যেই নানা প্রশ্নের জবাব দিলেন।

আল জাজিরার যে সাক্ষাৎকার নিয়ে এতো কিছু, সেটা নিয়ে আপনার কী প্রতিক্রিয়া? রায়হানের উত্তর, ‘যে ইন্টারভিউ দিয়েছিলাম খুবই সিম্পল ছিল। আমি আমার মতামত প্রকাশ করেছি। আমি করোনাকালে মালয়েশিয়ায় যা দেখেছি, তাই বলেছি। কিন্তু মালয়েশিয়ানদের সেটা পছন্দ হয়নি। পুলিশ আমাকে বারবার জিজ্ঞেস করেছে কেন আমি এই কথাগুলো বললাম।’কেন বললেন? রায়হানের উত্তর, আমি প্রায় ছয় বছর মালয়েশিয়া ছিলাম। প্রায়ই দেখতাম প্রবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, তাদের হাতে শিকল পরানো হতো এবং বেশিরভাগ সময় এটা বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে করা হতো। অন্য দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে এমনটা হয় না। ইউরোপ, আমেরিকা, চীনাদের কাউকে শিকল দিয়ে বাঁধছে এটা আপনি খুঁজে পাবেন না। এটা হয় বাঙালিদের ক্ষেত্রে। এটা নিয়ে আমি কথা বলেছি। রায়হান বলেন, মালয়েশিয়ার পুলিশকেও আমি এই কথাগুলো জানিয়েছি।

রায়হান বলেন, ‘এই ঘটনায় মালয়েশিয়া এমনভাবে ক্ষেপে উঠবে আমি বুঝিনি। আর আমার তো কাউকে আহত করার ইচ্ছা ছিল না। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে সমন জারি করা হলো। এরপর আমার ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করা হলো। ২৪ জুলাই আমাকে গ্রেপ্তার করা হলো।’

২৭ দিন ধরে আপনাকে ওরা কী জিজ্ঞেস করল? রায়হানের উত্তর, সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসা করেছে মালয়েশিয়ার বিরোধী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা আছে কিনা। কারো দ্বারা আমি প্রভাবিত কি না। কখনো কখনো গভীর রাতে ঘুম থেকে উঠিয়ে নিয়ে গেছে। কোনো কোনো দিন সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা টানা। বারবার জানতে চেয়েছে কেউ আমাকে কথাগুলো বলার জন্য টাকা দিয়েছে কিনা। আমি ক্ষমা চাইব কি না? বলব কি না আমি ভুল বলেছি। আমাকে যারাই এসব প্রস্তাব দিয়েছে সবাইকে বলেছি আমি মিথ্যা বলতে পারব না।’

কেমন ছিল জিজ্ঞাসাবাদের দিনগুলো? রায়হানের উত্তর, ‘প্রথম দিন ছাড়া প্রায় পুরোটা সময় তারা অসাধারণ ভালো ব্যবহার করেছে। সম্মান দিয়ে কথা বলেছে। আমি যেখানে ছিলাম সেখানে ১৪ জন আটক ছিল। রোজ তাদের ভালো খাবার দিয়েছে। তিন বেলা খাবার, আপেল-ডিম। আমি বলেছি, আমি চলে গেলে যেন এটা বন্ধ না হয়ে যায়। শুক্রবার চলে আসার সময় ওরা বলেছে, রায়হান তুমি কোনো মিথ্যা বলোনি। হাইকমিশনের সদস্যদের সামনেই আমার প্রশংসা করেছে।’

জেলে থাকাকালে তো জানতে না বাইরে কী হচ্ছে? কী ভাবতে? রায়হানের উত্তর, আমি জেলের ভেতর থাকার সময় মালয়েশিয়া বা দেশে কী হয়েছে আমি তা জানি না। আমি জেলে শুধু রেডিও শুনতে পেতাম। সেখানে আমাকে নিয়ে নানা দেশের কিছু বিবৃতি শুনতে পেয়েছি। সিএনএন ও বিবিসির নিউজ শুনতে পেয়েছি। কিন্তু আমি বাংলাদেশের কোনো খবর শুনতে পেতাম না।’

জেলখানায় বসে বাংলাদেশের কোন জিনিষটা বেশি মিস করেছে? রায়হানের উত্তর, আমি তো কক্সবাজার-সুন্দরবন থেকে শুরু করে অনেক জায়গায় বেড়িয়েছি। আমার পুরো বাংলাদেশের ছবিটা ভেসে উঠত মনের মধ্যে। মনে হতো কবে আমি আমার প্রিয় সেই দেশে ফিরে যাব। দেশের সবকিছুই খুব মিস করেছি। সবকিছুই মনে হচ্ছে এখন ভালো লাগছে।

সবকিছু যে আসলে ভালো লাগার সুযোগ নেই সেটা কয়েক মিনিট পরেই টের পাওয়া গেল। নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকা পার হওয়ার সময় উল্টো দিক থেকে একটা গাড়ি আসছিল। রায়হান সেদিকে তাকিয়ে চিৎকার করে করে বলছিল, ও মাই গড! দেখেন উল্টোপথে আসছে। আমি তো নিজে ড্রাইভ করি। এভাবে গাড়ি চালালে তো সমস্যা।

অবশ্য কাঁচপুরের নতুন ব্রিজটা দেখে মুগ্ধ রায়হানের প্রতিক্রিয়া, কী সুন্দর সেতু। মালয়েশিয়ার রাস্তাঘাট সুন্দর না বাংলাদেশের? রায়হানের উত্তর, মালয়েশিয়ার রাস্তাঘাট তো অনেক প্রশস্ত, বাংলাদেশেরও খারাপ না। কিন্তু ওই দেশের রাস্তায় আপনি শৃঙ্খলা পাবেন। আমাদের দেশে সড়ক থাকলেও সেই শৃঙ্খলটা নেই। এই যে দেখেন উল্টো পথে গাড়ি।

জেলখানায় যখন আইনজীবী দেখা করতে গেল, আপনি তখন তাকে বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী নামে একটা বই আছে। এই বইটাসহ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আরও কয়েকটি বই এনে দেওয়া যায়? হঠাৎ করে এই বইগুলো কেন খুঁজলেন? রায়হানের উত্তর, দিনের পর দিন কারাগারে থাকলে যে কেউ মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে যাবে। আমারও তখন মাঝে মধ্যে এমন হচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, বঙ্গবন্ধু দেশের জন্য, মানুষের জন্য ১৪ বছর জেলে থেকেছেন। আমিও তো একটা অন্যায়ের প্রতিবাদ করে এসেছি। বইগুলো আবার পড়লে মনের জোর বাড়বে।

কথাগুলো বলে কিছুক্ষণ চুপ থাকলেন রায়হান। এরপর নিজে থেকেই বললেন, যারা দেশ-মানুষের জন্য কাজ করতে চায় তাদের যদি পরিবার-সংসার এসব পিছুটান না থাকত কখনো কখনো ভালো হতো!

দেশের মানুষের জন্য কিছু বলতে চান? রায়হানের জবাব, ‘বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষ, কোটি প্রবাসী, সাংবাদিক, সরকার সবাই যেভাবে আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে আমি আমার সব কষ্ট ভুলে গেছি। আমি সকলের কাছে কৃতজ্ঞ।’

সামনের দিনগুলোতে কী ভাবছেন? রায়হানের জবাব, ‘আমার চাহিদা কম। নিজের যোগ্যতা-দক্ষতায় কিছু একটা করত পারব। তবে আমি প্রবাসীদের নিয়ে কাজ করতে চাই। এই মানুষগুলোর ওপর অনেক নিপীড়ন হয় যেগুলো উঠে আসে না। তবে সবার আগে কয়েকটি দিন বিশ্রাম করতে চাই। তবে একটা কথা বলতে পারি, আমি আমৃত্যু ন্যায়ের জন্য লড়ে যাব। প্রবাসীদের জন্য লড়ে যাব।

কথা বলতে বলতে ফজরের আযান হয়ে গেল। রায়হানের বাড়ি শাহি মসজিদ এলাকায় গাড়ি পৌঁছাল। গাড়ি থেকে নেমেই দ্রুত বাড়ির দিকে হাঁটা শুরু করল রায়হান। বাড়ির গেটে তখন দাঁড়িয়ে আছে তার মা আর ছোট বোন মেহেরুন। আশপাশে আরও অনেক আত্মীয়স্বজন। এর মধ্যেই রায়হান যেন অনেকটা ঝাঁপিয়ে পড়ল মায়ের বুকে।

রায়হানের মা রাশিদা বেগমের কথা, অনেক শুকিয়ে গেছিস। রায়হানের পাল্টা উত্তর, মা, শুকিয়েছ তুমি। রায়হান এসেছে শুনে আশেপাশের প্রতিবেশীসহ আরও স্বজনরা এসেছেন। মা ছেলের এই কথাবার্তায় যোগ দিলেন বাড়ির অন্য আত্মীয়রাও। নানাজনের নানা প্রশ্নের উত্তর দিয়েই চলছেন রায়হান। তাকে এক নজর দেখতে দূর দুরান্ত থেকে স্বজন ও এলাকাবাসী ছুঁটে আসছেন। ভালোবাসায় সিক্ত রায়হান! 


এসএস/বি

সদ্য সংবাদ ডেস্কঃ 

নারায়ণগঞ্জে জাগো হিন্দু পরিষদের উদ্যোগে, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে মোমবাতি প্রজ্জলন, শোকসভা ও বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকালে দেওভোগ শ্রী শ্রী রামসীতা মন্দিরে, জাগো হিন্দু পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার আয়োজনে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।


জাগো হিন্দু পরিষদ নারায়নগঞ্জ জেলার সভাপতি কৃষ্ণ দাস কাজলের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক সুজন দাসের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাগো হিন্দু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সঞ্জয়, সাধারণ সম্পাদক নিতাই দেবনাথ।

 আরও উপস্থিত ছিলেন, জাগো হিন্দু পরিষদ নারায়নগঞ্জ জেলার সহ-সভাপতি অসিম কুমার রায়, অজয় সূত্রধর, সঞ্জীবন মন্ডল, চন্দন দে, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অভি রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক সুমিত রায়, সহ-দপ্তর সম্পাদক পলাশ মন্ডল, যুব বিষয়ক সম্পাদক বীরবল রয়, সহ-সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক বাবুল সাহা, অঞ্জন দাস হৃদয়, পরিমল দাস, পলাশ সেন, জনি সাহা, চঞ্চল সাহা, টনি সনাতন, মহানগর প্রতিনিধি উজ্জ্বল ঘোষ, রূপগঞ্জ উপজেলা কমিটির আহবায়ক সবুজ দাস, সজীব দাস, ভক্ত দাস, মিল্টন দাস, হীরা দাস প্রমুখ।

 

                                  প্রতারক লিটন



নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 

চাঁদাবাজি, প্রতারণা, সাইবার অপরাধসহ এক ডজনের মতো মামলার আসামি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার সিকদার লিটনের পেছনে কারা কাজ করছেন তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসা লিটনকে পেছনে থেকে কারা ইন্ধন দিচ্ছে তা তদন্ত করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক ইউনিট। অর্ধডজন মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও একটি মামলায় সাজা হওয়া এই প্রতারককে ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা তেমন চোখে পড়েনি। তবে পুলিশ বলছে, লিটনকে ধরতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

বিভিন্ন সময় থানায় লিটনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কাগজ পৌঁছালেও সবসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে গেছেন এই প্রতারক। এর ফলে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেন তিনি।

স্থানীয়রা জানায়, এমন কোনো অপরাধ নেই, যার সঙ্গে জড়িত নেই সিকদার লিটন। বিশেষ করে চাঁদাবাজি, প্রতারণা ও প্রাণনাশের হুমকি, সাইবার অপরাধসহ প্রায় ডজনখানেক মামলার আসামি তিনি।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর, খুলনা ও পাবনা জেলায় সিকদার লিটনের বিরুদ্ধে এসব মামলা রয়েছে। এর মধ্যে খুলনার সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ২০১৮ সালের ১৯ মার্চ। মামলা নং-২৪। চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকির অপরাধে এই মামলা করা হয়।

এছাড়া পাবনা জেলার আটঘরিয়ায় একটি সি.আর মামলার আসামিও সে। মামলার নং-৪৯/১৪। এই মামলাটি করা হয়েছে প্রতারণার অভিযোগে। পাবনার আমিনপুর থানাতেও করা প্রাণনাশের একটি মামলার আসামি লিটন। ২০১৪ সালের ১৮ মে মামলাটি করা হয়। অপকর্মের অভিযোগে ২০১৬ সালের ৯ মে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা থানায়।

সিকদার লিটনের যত সাইবার অপরাধঃ

সাইবার অপরাধেও অর্ধডজন মামলার আসামি সিকদার লিটন। তার বিরুদ্ধে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন থানায় দুই ডজনের বেশি সাধারণ ডায়েরিও রয়েছে। ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সাইফারের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুৎসা রটনার অভিযোগ আছে সিকদার লিটনের বিরুদ্ধে। ২০১৯ সালের ১৮ নভেম্বর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সিকদার লিটন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি অভিযোগ করেন সাইফার। যেটি সাধারণ ডায়েরি হিসেবে নিবন্ধিত হয়। যার নম্বর- ৮৭৫। ওইদিনই আলফাডাঙ্গার উপপরিদর্শক স্বপন কুমার ফরিদপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অভিযোগটি তদন্তের অনুমতি চান। তাতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ এর অধীনে ২৫/২৯ ধারায় অধর্তব্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। যেটি তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মত দেয় পুলিশ। এর প্রেক্ষিতে গত বছরের ২৪ নভেম্বর আদালত তদন্তের অনুমতি দেয়। সেই সঙ্গে ২০১৯ সালের ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দিতে বলা হয়। পরে পুলিশি তদন্তে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায় এবং প্রতিবেদনটি আদালতেও জমা দেওয়া হয়। কিন্তু এখনো ওই মামলায় শিকদার লিটনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ফরিপুর-১ আসনের সাবেক সাংসদ আব্দুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা এস এম আকরাম হোসেনকে নিয়ে ফেসবুকে নানা ধরনের অপপ্রচার ও সম্মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ আছে সিকদার লিটন ও তার ইন্ধনদাতাদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ২০১৯ সালের ২ ডিসেম্বর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন আকরাম হোসেন। যার নং- ৯৬। ফেসবুকে অসত্য ও মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এনায়েত হোসেনও সিকদার লিটনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। এই দুটো অভিযোগ তদন্তের জন্য আদালতের অনুমতির অপেক্ষায় আছে পুলিশ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিকদার লিটনের বাড়ি আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের চর আজমপুর গ্রামে। ওই গ্রামের সিদ্দিক শিকদারের ছেলে সিকদার লিটন। স্থানীয়দের কাছে তিনি প্রতারক ও ছদ্মবেশি অপরাধী বলেই বেশি পরিচিত। এলাকার মানুষকে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে চাকরি দেওয়ার নাম করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সিকদার লিটন। একবার তার হাতে টাকা গেলে সেই টাকা কেউ ফেরত পেয়েছেন এমন নজির নেই। চাকরি দূরের কথা, টাকা চাইতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। এসব অপরাধের অভিযোগে একাধিক মামলাও আছে তার বিরুদ্ধে। চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর লিটন ভুক্তভোগীর ফোন ধরা বন্ধ করে দেন। এসব কারণে আলফাডাঙ্গা ও টগরবন্দ থেকে তাকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। গ্রেপ্তার এড়াতে বিভিন্ন সময় আস্তানা গেড়েছেন। বেশি দিন এক নম্বর ব্যবহার করেন না।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র বলছে, এলাকা থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর ঢাকা ছাড়াও খুলনার সীমান্ত এলাকা, পাবনাসহ বিভিন্ন জায়গা অবস্থায় নিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছেন লিটন। বর্তমানে ভাঙ্গা এবং গোপালগঞ্জে তার অবস্থান বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি  প্রতারণার বিভিন্ন খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে সিকদার লিটন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে গুজব ছড়াতে থাকে। মাঝে মাঝে ফেসবুক লাইভে এসে নেতাদের বিরুদ্ধে বাজে মন্তব্য করেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক এমপি মো. আব্দুর রহমান, আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম আকরাম হোসেন, আলফাডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সাইফারের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুৎসা রটাচ্ছেন। এসব অভিযোগে তার বিরুদ্ধে থানায় সাইবার অপরাধে মামলা হয়েছে, যা আদালতের নির্দেশে তদন্তাধীন।

প্রতারণার অভিযোগে সিকদার লিটনের বিরুদ্ধে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা থানায় ৫/৭টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। এছাড়া একাধিক সাইবার মামলার তদন্ত করছে থানা পুলিশ। পুলিশ বলছে, খুবই চালাক এই প্রতারক প্রতিনিয়ত নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেন। যেখানেই অবস্থান করেন সেখানেই মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে সরে পড়েন। বহুরূপী এই প্রতারক বিভিন্ন সময় ডজনখানেক সিম নিজের নামে কিনেছেন।

মধুখালী সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, ‘আমি একটু ব্যস্ত আছি। রাতে অভিযুক্তের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।


এসএস/বি

সদ্য সংবাদ ডেস্কঃ

   ৭টি হাত বোমা সহ ডাকাত দলের ৪ সক্রীয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ২০ আগস্ট রাতে সোনারগাঁ থানার আষাড়িয়ার চর ব্রীজের উত্তর পাশে অবস্থিত একটি খালি জায়গা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময়ে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ৩টি ছোরা, ২টি কাওয়াল, ১টি কাটার, ৩টি মোবাইল সেট ও বোমা তৈরীতে ব্যবহৃত পাউডার উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মুন্সিগঞ্জ গজারিয়া চরবলাকি এলাকার আঃ হাইয়ের ছেলে মোমেন (৩৪), আড়াইহাজার থানার ঝাউকান্দি এলাকার শামসু মিয়ার ছেলে শুক্কুর আলী, মৌলভীবাজার জেলার জুড়ি থানার নয়াগ্রাম এলাকার মেহের আলী মাস্টারের ছেলে নাজিম উদ্দিন অরফে নাদিম ও ব্রাক্ষ্মনবাড়ীয়ার বাঞ্চারামপুর থানার তেজখালী মধ্যপাড়া এলাকার মৃত নীল মিয়ার ছেলে বাবুল হোসেন অরফে বাবু।

শনিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) জাহেদ পারভেজ চৌধুরী জানান, গ্রেপ্তারের দিন আমাদের একদল টিম সোনারগাঁ ও বন্দর থানাধীন এলাকা ডিউটি করা কালিন সময়ে সংবাদ পায়,আষাড়িয়ার চর ব্রীজের উত্তর পাশে একদল সন্দেহবাজন লোক ঘোরাঘুরি করছে। 

পরবর্তীতে আমার নেতৃত্বে এস আই মোঃ আব্দুল হক শিকদার ও সঙ্গীয় ফোর্সসহ এক অভিযানে ডাকাতদের গ্রেফতার করি।পরবর্তীতে ডাকাতদের জিজ্ঞাসাবাদে তাদের সাথে থাকা সবুজ, মাসুম ও দাইয়ান নামের ৩ পলাতক ডাকাতের নাম প্রকাশ করে। এবং বোমা তৈরীর সরঞ্জামাদী বন্দরের একটি বাসায় মজুদ আছে বলে জানান। তার দেয়া তথ্য মতে আমরা বন্দরের রওশনবাগ এলাকায় অভিযান চালালে মমতাজ (৬০) নামের এক মহিলাকে গ্রেপ্তার করি এবং পলিথিনের প্যাকেটে ২কেজি ৬শ’ গ্রাম বোমা তৈরীর পাউডার উদ্ধার করি।

তিনি জানান, তদন্তের স্বার্থে আমরা আদালতে রিমান্ড চাইবো। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে আরও তথ্য উঠে আসতে পারে।


এসএস/বি


মামুন আহমেদ জয়,আড়াইহাজারঃ

  নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জহিরুল ওরফে জক্কু ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। তিনি উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের নরিংদী হাফেজ মোল্লার ছেলে। সে একাধিক মামলার পলাতক আসামি।গতকাল শনিবার সকালে পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করে তাকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়।

 এর আগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত শুক্রবার গভীর রাতে আড়াইহাজার থানার এস আই গাজী শামীম হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার কাছ থেকে ২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। অপরদিকে তাকে গ্রেফতারের খবর পেয়ে স্থানীয় নরিংদী এলাকাবাসী থানায় এসে তার শাস্তির দাবি করেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, ইতিপূর্বে ধৃত জহিরুলের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়, আইজিপি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তারা। আড়াইহাজার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন,ধৃত জহিরুলের নামে বিভিন্ন মামলায় নারায়ণগঞ্জের আদালত থেকে সম্প্রতি তিনটি গ্রেফতারি জারি করা হয়। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে থানায় ৯টি  মামলা রয়েছে। 

এসএস/বি


           


নিজস্ব সংবাদদাতাঃ 

ফতুল্লায় কর্মস্থল থেকে ফেরার সময় গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন পোশাক শ্রমিক এক তরুণী (১৮)।  সেই রাতেই ভুক্তভোগী তরুণী থানায় অভিযোগ দায়ের করলে ৩ ঘন্টার ব্যবধানে ৫ আসামিকে গ্রেপ্তার করে ফতুল্লা থানা পুলিশ। বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ফতুল্লার পাগলা খেয়াঘাটের পাশে বালুর মাঠে গণধর্ষণের এ ঘটনা ঘটে। তখন ওই পোশাক শ্রমিক কাজ শেষে অন্য এক নারী সহকর্মীর সাথে বাড়ি ফিরছিলেন বলে জানায় পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- সোনারগাঁওয়ের মুসার চর ভূইঁয়াপাড়া এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে রবিন (২১), ফতুল্লার আলীগঞ্জের শিবলু কাজীর বাড়ির ভাড়াটিয়া নুরুল ইসলামের ছেলে আল আমিন (২১), আলীগঞ্জের জোড়া ৫ তলার পাশে মহিবুল্লাহর ছেলে হিমেল (২০), আলীগঞ্জ রেললাইন এলাকার মৃত সেলিম মিয়ার ছেলে মোস্তাক (২২), একই এলাকার আকবর বেপারীর বাড়ির ভাড়াটিয়া আব্দুল আউয়াল হাওলাদারের ছেলে মাসুম (২০)। এর আগে ওই নারী পোশাককর্মী ফতুল্লা থানায় মামলা করেন। মামলার অভিযুক্তদের মধ্যে ৫জনকে গ্রেফতার করা হলেও একজন পলাতক রয়েছে।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন বলেন, কেরানীগঞ্জের পানগাও এলাকার ১৮ বছরের এক তরুনী ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরীর একটি গার্মেন্টে চাকরী করে। প্রতিদিন বিকেল ৫ টায় আবার কোন সময় রাত ৮ টায় গার্মেন্ট ছুটি হওয়ার পর অন্যান্য সহকর্মীদের সাথে বাসায় চলে যায়। বুধবার কাজের চাপ থাকায় ওভারটাইম শেষ করে রাত ১২ টায় একই কারখানায় সহকর্মী বান্ধবীর সাথে বাসার উদ্দ্যেশে রওনা হয়। তারা পঞ্চবটি হতে অটোরিকশা নিয়ে পাগলা খেয়াঘাটে নৌকার জন্য অপেক্ষা করছিলো। 

কিছুক্ষণ পর এক বখাটে খেয়াঘাটে দুই তরুনীকে দেখে ফোন করে অন্যদের ডেকে আনে। তারা ৬ জন একত্রিত হয়ে চালককে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে তরুনীদের নির্জন স্থানে নেওয়ার চেষ্টা করে, চালক এক তরুনীকে বাঁচিয়ে আনতে পারলেও অন্যজনকে আনতে পারেনি।  রাত দেড়টার দিকে ৬ জন মিলে পালাক্রমে গার্মেন্টস কর্মীকে ধর্ষণ করে।

তিনি আরো বলেন, ধর্ষণের ঘটনার এক ঘন্টা পর তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে থানায় এসে অভিযোগ দায়েরের পর ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে তিন ঘন্টার মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর রাত হতে সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে আরো দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর গ্রেপ্তারের পর তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এমনকি ধর্ষণের শিকার তরুনীর বান্ধবী সহ অটোরিকশা চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ঘটনার সাথে তাদের যোগসাজস রয়েছে কিনা তদন্ত করে দেখা হবে।

এসএস/বি

 


সদ্য সংবাদ ডেস্কঃ  

২০০৪ সালের ২১ আগষ্টে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বর্বোরোচিত গ্রেনেড হামলায় নিহত সকল শহীদদের স্মরণে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলা যুবলীগের আয়োজনে এক দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকালে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের মোগরাপাড়া চৌরাস্তা় এলাকায় অবস্থিত সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয়ে  এ দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।   

সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি হাজী রফিকুল ইসলাম নান্নুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিদ্ধিরগঞ্জ ও সোনারগাঁওয়ের আওয়ামী লীগের দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন,মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফ মাসুদ বাবু, কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাসরিন সুলতানা ঝরা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি গাজী মুজিবুর রহমান, উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী কামাল হোসেন, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দীক, কাঁচপুর শিল্পাঞ্চল শ্রমিক লীগের সভাপতি হাজী মোঃ আব্দুল মান্নান মেম্বার, উপজেলা যুবলীগের সহ সম্পাদক জিয়াউল হোসেন, মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোঃ শিপন সরকার, শম্ভুপুরা ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ূম সহ উপজেলা ও পৌরসভা আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

দোয়া ও আলোচনা সভার প্রধান অতিথি সাবেক সংসদ সদস্য কায়সার হাসনাত তার বক্তব্যে সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে

বলেন, আহ্বায়ক কমিটি শুরুর প্রক্রিয়াই ছিলো আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক আচরণ বিরোধী।

তাছাড়া সবকিছুরই একটি মেয়াদ উত্তীর্ণের সময় থাকে।

সেটা ঔষধ হোক অথবা কোনো খাবার হোক। আমরা কেউ কিন্তু মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার খাই না, ফেলে দেই। আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ থাকে তিন মাস। আহ্বায়ক কমিটি মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে কিন্তু তারা এতো দিনেও সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের জন্য কিছুই করতে পারেনি। তাই সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল কর্মীরা মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবারের মতো তাদেরকেও ছুঁড়ে ফেলে দিছে।

আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে নেতাকর্মীরা বক্তব্যে, শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিচালিত ২১ আগস্টের বর্বোরোচিত গ্রেনেড হামলার ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরে বলেন, দলকে সুসংগঠিত করতে হলে সকল মান অভিমান ভূলে দলের জন্য কাজ করতে হবে। দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে।

August 21, 2020

 

 সোনারগাঁয়ে আওয়ামীলীগের আহবায়ক কমিটির উদ্যোগে ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্বরনে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

শুক্রবার বাদ জুমা সোনারগাঁ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এ দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়।

সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক অ্যাডভোকেট সামসুল ইসলাম ভূইয়া ও যুগ্ম আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুমের উদ্যোগে এ মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নেকবর হোসেন নাহিদসহ আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও শ্রমিকলীগ ও 


 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ  

সিদ্ধিরগঞ্জের এসও ঘাট সংলগ্ন খবির উদ্দিন ভ্যারাইটিজ ষ্টোরের সামনে পাকা রাস্তার উপর চলাচলরত ট্রাক থামিয়ে চাঁদা আদায়কালে ২ জন চাঁদাবাজ চক্রের সক্রিয় সদস্য’কে হাতে-নাতে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১ । গ্রেফতারকৃতরা হলেন মোঃ তহিদুল ইসলাম পিয়াস (২৮) , মোঃ পারভেজ হোসেন @ দীন ইসলাম (২৬)। বৃহস্পতিবার ( ২০ আগস্ট) র‌্যাব-১১ ( সিপিএসসি নারায়ণগঞ্জ) অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের দখল হতে চাঁদাবাজির নগদ ২,৬৪৫/- টাকা, ০৩টি চাঁদা আদায়ের রশিদ বহি ও ০১টি চাঁদা আদায়ের রেজিষ্টার উদ্ধার করা হয়।

রাতে র‌্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( সিপিএসসি আদমজীনগর) মোঃ জসিম উদ্দীন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

তিনি জানান , একটি চাঁদাবাজ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সিদ্ধিরগঞ্জের এসও ঘাট এলাকায় পণ্যবাহী ট্রাক থামিয়ে জোরপূর্বক ভয়ভীতি দেখিয়ে দৈনিক প্রতি ট্রাক থেকে ১০০/- টাকা থেকে ১৫০/- টাকা পর্যন্ত অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করে আসছে। গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়কে জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মাজহারুল ইসলাম সুমনের নেতৃত্বে তারা পরস্পর যোগসাজশে সিদ্ধিরগঞ্জের এসও ঘাট এলাকায় চলাচলরত ভারী পণ্য বোঝাই ট্রাক ড্রাইভার ও হেলপারদের নিকট হতে গুরুতর আঘাত ও ক্ষয়ক্ষতির ভয়ভীতি দেখিয়ে বলপূর্বক চাঁদা আদায় করে আসছে। 

গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয় এরূপ অপতৎপরতা পূর্বে হতে করে আসছে মর্মে স্বীকার করে। এ সকল চাঁদাবাজদের অত্যাচারে ট্রাক চালকরা অতিষ্ঠ। গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এসএস/বি

সদ্য সংবাদ ডেস্কঃ

 

ভয়াবহ ২১ আগস্ট রাজনৈতিক ইতিহাসের জঘন্য ও কলঙ্কিত একটি দিন। স্বাধীনতা বিরোধী বিএনপি-জামাত চক্র এইদিন হায়নার মত গ্রেনেড নিক্ষেপ করে আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল। ষড়যন্ত্র, লোভ-লালসা আর পিছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতা যাওয়ার জন্য এইদিন বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার ঘৃণ্য মতলব হাসিল করার পাঁয়তারা করে গ্রেনেড হামলা চালিয়েছে বিএনপি জামাত জোট। তৎকালীন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা, প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানের শেষে তাঁর হাতে থাকা একটি কাগজ ভাঁজ করতে করতে এগুচ্ছিলেন ট্রাক থেকে নামার সিঁড়ির কাছে। এসময় শুরু হলো নারকীয় গ্রেনেড হামলা। বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হতে লাগল একের পর এক গ্রেনেড।

মঞ্চে দাড়ানো নেতৃবৃন্দ তাৎখানিক মানববর্ম তৈরি করে শেখ হাসিনাকে রক্ষা করেন।  

নেত্রীর ঠিক সামনেই দাড়িয়ে ছিল নারায়নগন্জ-সোনারগাঁয়ের কৃতী সন্তান অকুতোভয় ছাত্রনেতা এ এইচ এম মাসুদ দুলাল। আল্লাহের অশেষ রহমতে প্রাণে বেঁচে যান,কিন্তু ঐ নরপিচাশদের স্প্রিন্টার এখনো শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছেন। নেত্রীর নির্দেশে করা আহত নেতাদের তালিকা বইয়েও ১৬৮ নম্বরে তার নাম লিখা আছে। হিমশীতল মৃত্যুর স্পর্শ থেকে বেঁচে যাওয়া দুলাল এখনো বিশ্বাসই করতে পারেন না, আসলে তিনি জীবিত আছেন কি না। মৃত্যুর এত কাছাকাছি গিয়ে আবার ফিরে আসায় হয়তো তিনি নতুন জীবন পেয়েছেন।

কিন্তু যত দিন তিনি বেঁচে থাকবেন ততদিনই বহন করে যেতে হবে সেই দুঃস্বপ্নের মতো তাড়িয়ে বেড়ানো স্মৃতিকে, হঠাৎ করে গভীর অন্ধকারে তলিয়ে যাওয়ার সেই ঘটনাকে।

 তিনি এক বার্তায় বলেন, দেড় দশক আগে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে ২০০৪ সালের ২১ শে আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী শান্তি সমাবেশে নারকীয় গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। সেই গ্রেনেড হামলার সাথে নারায়ণগঞ্জের একজন জড়িত ছিলেন, তিনি হলেন র‌্যাবের হাতে ক্রসফায়ারে নিহত যুবদল নেতা মমিন উল্লাহ ডেভিডের ছোট ভাই শাহাদাত উল্লাহ জুয়েল। শাহাদাত উল্লাহ জুয়েল যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী। সে এখন কারাগারে রয়েছে। সেদিনের হামলায় অন্যদের সঙ্গে মারা যান নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার গাবতলী এলাকার রতন সিকদার।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ স্থানীয় কয়েকজন নেতা সেদিন অল্পের জন্য এই ভয়াবহ হামলা থেকে বেঁচে গেলেও মহিলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক বেগম আইভি রহমান ও অপর ২৪ জন এতে নিহত হন। এছাড়া এই হামলায় আরো ৪শ’ জন আহত হন। আহতদের অনেকেই চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছেন। তাদের কেউ কেউ আর স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাননি। বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলা মামলার রায় হয়েছে। আপিল শেষ হয়নি।

এই বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলায় নিহতদের মধ্যে ছিলেনঃ 

আইভি রহমান, শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী ল্যান্স করপোরাল (অব:) মাহবুবুর রশীদ, আবুল কালাম আজাদ, রেজিনা বেগম, নাসির উদ্দিন সরদার, আতিক সরকার, আবদুল কুদ্দুস পাটোয়ারি, আমিনুল ইসলাম মোয়াজ্জেম, বেলাল হোসেন, মামুন মৃধা, রতন শিকদার, লিটন মুনশী, হাসিনা মমতাজ রিনা, সুফিয়া বেগম, রফিকুল ইসলাম (আদা চাচা). মোশতাক আহমেদ সেন্টু, মোহাম্মদ হানিফ, আবুল কাশেম, জাহেদ আলী, মোমেন আলী, এম শামসুদ্দিন এবং ইসাহাক মিয়া।

মারাত্মক আহতরা হলেনঃ

শেখ হাসিনা, আমির হোসেন আমু, প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাক, প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, ওবায়দুল কাদের, মোহাম্মদ হানিফ, সম্প্রতি প্রয়াত এডভোকেট সাহারা খাতুন, এ এফ এম বাহাউদ্দিন নাছিম, আওলাদ হোসেন, মাহবুবা পারভীন, এডভোকেট উম্মে রাজিয়া কাজল, নজরুল ইসলাম বাবু, নাসিমা ফেরদৌস, শাহিদা তারেক দিপ্তী, রাশেদা আখতার রুমা, হামিদা খানম মনি, ইঞ্জিনিয়ার সেলিম, রুমা ইসলাম, কাজী মোয়াজ্জেম হোসেইন, মামুন মল্লিক প্রমুখ।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামি যারাঃ

আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ড (ফাঁসি) পেয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন, হুজির সাবেক আমির ও ইসলামিক ডেমোক্রেটিক পার্টির আহ্বায়ক মাওলানা শেখ আবদুস সালাম, কাশ্মীরি জঙ্গি আবদুল মাজেদ ভাট, আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোস্তফা, মাওলানা শওকত ওসমান, মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান, মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডাঃ জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, হোসাইন আহম্মেদ তামিম, মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন, মোঃ রফিকুল ইসলাম সবুজ, মোঃ উজ্জ্বল রতন, সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনএসআই) সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম ও হানিফ পরিবহনের মালিক বিএনপি নেতা মোহাম্মদ হানিফ।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেনঃ

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা হারিছ চৌধুরী, বিএনপি নেতা সাবেক এমপি কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, হরকাতুল জিহাদ (হুজি) সদস্য হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, শাহাদাৎ উল্লাহ ওরফে জুয়েল, মাওলানা আবদুর রউফ, মাওলানা সাব্বির আহমেদ, আরিফ হাসান ওরফে সুমন, আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, মো. আরিফুল ইসলাম আরিফ, মহিবুল মুত্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন, আনিসুল মুরছালিন ওরফে মুরছালিন, মো. খলিল ওরফে খলিলুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মো. ইকবাল ওরফে ইকবাল হোসেন, লিটন ওরফে মাওলানা লিটন, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আব্দুল হাই ও রাতুল আহমেদ ওরফে রাতুল বাবু।

তাছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত ১১ আসামি হলেনঃ

পুলিশের সাবেক তিন আইজি মোঃ আশরাফুল হুদা, শহুদুল হক ও খোদা বক্স চৌধুরী, খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, লে. কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার, ডিজিএফআইর মেজর জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন, ডিএমপির সাবেক উপকমিশনার (দক্ষিণ) খান সাঈদ হাসান, সাবেক উপকমিশনার (পূর্ব) ওবায়দুর রহমান খান, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক সিআইডির সাবেক বিশেষ সুপার মোঃ রুহুল আমিন, সাবেক এএসপি আবদুর রশিদ ও সাবেক এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান।

অভিযোগ রয়েছে, মূলত আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শূন্য করতে বিএনপি-জামায়াত তথা চার দলীয় জোট সরকার রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে নৃশংসতম গ্রেনেড হামলা চালায়।

দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।


এসএস/বি


নিজস্ব সংবাদদাতাঃ ২১ আগস্ট, বর্বর নৃশংস জঘন্য গ্রেনেড হামলা দিবস। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের নৃশংস হত্যাযজ্ঞের কালো দিন। শোকবিহ্বল জাতি শ্রদ্ধাবনত চিত্তে আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) ইতিহাসের ভয়াবহতম গ্রেনেড হামলার ১৬তম বার্ষিকী পালন করবে। দেড় দশক আগে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে ২০০৪ সালের এইদিনে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি সমাবেশে নারকীয় গ্রেনেড হামলা চালানো হয়।

মূল টার্গেট বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার লক্ষ্যে হামলা চালানো হলেও অল্পের জন্য বেঁচে যান তিনি। শুধু গ্রেনেড হামলাই নয়, সেদিন শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার গাড়ি লক্ষ্য করেও চালানো হয় ছয় রাউন্ড গুলি। দলীয় নেতাকর্মীরা মানবঢাল তৈরি করায় সেদিন প্রাণে বেঁচে যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বেগম আইভি রহমানসহ দলের ২৪ নেতাকর্মী প্রাণ হারান। আহত হন বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীসহ আওয়ামী লীগের কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী। তাদের অনেকেই এখনও শরীরে স্প্রিন্টারের ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন। কেউ কেউ এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা ছিল ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের কালরাতের বর্বরোচিত ও নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ধারাবাহিকতা। আওয়ামী লীগ সভাপতি, ওই সময়ের বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনাকে হত্যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করাই ছিল এই হামলার মূল উদ্দেশ্য। সেই লক্ষ্য পূরণে জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নানসহ মুক্তিযুদ্ধবিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর নীলনকশায় সংঘটিত হয় গ্রেনেড হামলা। সেদিন আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের নির্বিকার ভূমিকায় দায়ের করা মামলা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে জজ মিয়া নাটকও সাজানো হয়। তখন ক্ষমতাসীন বিএনপি-জামায়াতসহ চার দলীয় জোটের ভূমিকাও ছিল প্রশ্নবিদ্ধ? বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণে দেখা যায়, রাষ্ট্রযন্ত্রের সহায়তাতেই প্রকাশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছিল।যা পরবর্তীতে আদালতের রায়েও উঠে এসেছে।

সারাদেশে হত্যা, খুন, গুম অত্যাচারের বিরুদ্ধে তৎকালীন জোট সরকারের বিরুদ্ধে ২১ আগস্টের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশ ডেকেছিল আওয়ামী লীগ। পূর্ব নির্ধারিত সমাবেশটি মুক্তাঙ্গনে পুলিশি বাধার কারণে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ট্রাকে অস্থায়ী মঞ্চ করে অনুষ্ঠিত হয়। সেই সমাবেশে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার বক্তব্য যখন শেষ, ঠিক সেই সময় আকস্মিক বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হতে শুরু করে গ্রেনেড। বিকট শব্দ, আর্তচিৎকার, দিশেহারা নেতাকর্মীদের ছোটাছুটিতে সমাবেশস্থল আচমকায় পরিণত হয় এক মৃত্যুপুরীতে। ঢাকার তৎকালীন মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ও হাসিনার ব্যক্তিগত দেহরক্ষীসহ আওয়ামী লীগ নেতারা তাৎক্ষণিকভাবে এক মানববর্ম তৈরি করে নিজেরা স্প্রিন্টার, গুলির আঘাত সহ্য করে শেখ হাসিনাকে গ্রেনেডের হাত থেকে রক্ষা করেন সেদিন।

মেয়র হানিফের মস্তিস্কে রক্তক্ষরণজনিত অস্ত্রোপচার করার কথা থাকলেও গ্রেনেডের স্প্রিন্টার শরীরে থাকার কারণে তার অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হয়নি। পরে তিনি ব্যাংকক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আওয়ামী লীগের ওই সময়ের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন প্রাণ হারান। আহত হন ৫ শতাধিক নেতাকর্মী।

বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলায় অন্য নিহতরা হলেন- প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী ল্যান্স করপোরাল (অব.) মাহবুবুর রশীদ, আবুল কালাম আজাদ, রেজিনা বেগম, নাসির উদ্দিন সরদার, আতিক সরকার, আবদুল কুদ্দুস পাটোয়ারি, আমিনুল ইসলাম মোয়াজ্জেম, বেলাল হোসেন, মামুন মৃধা, রতন শিকদার, লিটন মুনশী, হাসিনা মমতাজ রিনা, সুফিয়া বেগম, রফিকুল ইসলাম (আদা চাচা), মোশতাক আহমেদ সেন্টু, মোহাম্মদ হানিফ, আবুল কাশেম, জাহেদ আলী, মোমেন আলী, এম শামসুদ্দিন ও ইসাহাক মিয়া।

মারাত্মক আহতদের মধ্যে আছেন- শেখ হাসিনা, আমির হোসেন আমু, প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাক, প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, ওবায়দুল কাদের, প্রয়াত অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, মোহাম্মদ হানিফ, এ এফ এম বাহাউদ্দিন নাছিম, নজরুল ইসলাম বাবু, আওলাদ হোসেন, সাঈদ খোকন, এস এম কামাল হোসেন, মাহবুবা পারভীন, অ্যাডভোকেট উম্মে রাজিয়া কাজল, নাসিমা ফেরদৌস, শাহিদা তারেক দিপ্তী, রাশেদা আখতার রুমা, হামিদা খানম মনি, 

হামলার দীর্ঘ ১৪ বছর পর গত বছরের ১০ অক্টোবর বিচারিক আদালত হামলার সময়কার স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। অন্যদিকে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান (বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। এছাড়া আরও ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন আদালত। মামলাটি এখন উচ্চ আদালতে বিচারাধীন।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাস্টারমাইন্ড বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পালাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের রায় কার্যকর করতে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। রায় ঘোষণার পর বিচারিক আদালতও পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘গ্রেনেড হামলা ছিল আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার প্রয়াস। রাষ্ট্রযন্ত্রের সহায়তায় প্রকাশ্য দিবালোকে নৃশংস এ হামলা ঘটানো হয়েছিল।’

রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সহযোগিতায় রাজনৈতিক সমাবেশে এ ধরনের নারকীয় হত্যাযজ্ঞ পৃথিবীর ইতিহাসে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। সেই ভয়াল দিনটি স্মরণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভাসিত দেশের জনগণ ২১ আগস্ট দিনটিকে ২০০৪ সালের পর থেকে নারকীয় গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে ও হতাহতদের স্মরণে সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদবিরোধী নানা কর্মসূচি পালন করে ।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। প্রতিবারের মতো এবারও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দিবসটি স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এবার গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে ২১ আগস্ট শুক্রবার সকাল ৯টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নির্মিত বেদিতে পুস্পার্ঘ্য নিবেদন করা করা হবে।

উল্লেখ্য, মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে গ্রেনেড হামলার দিনটি স্মরণে সীমিত পরিসরে নানা কর্মসূচি পালন করবে আওয়ামী লীগ। কর্মসূচিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের নেতা, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং সহযোগী সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকগণ স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে উপস্থিত থাকবেন। সকল কর্মসূচি যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে পালন করার জন্য দল ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সকল স্তরের নেতা-কর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।


এসএস/বি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 

নিউ মিষ্টি মুখ, আদর্শ মিষ্টান্ন ভান্ডার ও রসরাজ মিষ্টিমুখে অভিযান পরিচালনা করেছেন ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমান আদালত। এ সময়ে ৩টি প্রতিষ্ঠানকে ১০ হাজার করে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

বুধবার ১৯ আগস্ট দুপুরে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার নুশরাত আরা খানমের নেতৃত্বে সহকারী কমিশনার পলাশ কুমার দেবনাথ, সহকারী কমিশনার উম্মে সালমা নাজনীন তৃষার সহায়তায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।

জালকুড়িতে জরিমানারমজানে দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধি রোধে বাজারে জেলা প্রশাসন মাসদাইর বাজারে জরিমানা

নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটগন জানান, প্রতিষ্ঠানগুতো অভিযান চালানোর পর আমরা, পণ্যে উৎপাদন তারিখ উল্লেখ না থাকা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, সুরক্ষা সামগ্রী বিধান না মানায় প্রতি প্রতিষ্ঠানে ১০ হাজার করে জরিমানা করা হয়। এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তারা।

এসএস/বি




সদ্য সংবাদ ডেস্কঃ মাত্র ৪০০ টাকায় মোবাইল ফোন কিনেছিল সোহানা। খুবই সস্তা। খুশিতে গদগদ। সে কি জানতো এই মোবাইলেই শনাক্ত হবে শাকিল হত্যার রহস্য। দীর্ঘ ২ বছর পর সেই ফোনের খোঁজে ঘরের দরজায় কড়া নেড়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সোহানার দেওয়া তথ্যে বেড়িয়ে এসেছে মোবাইলের বিক্রেতা আমিনুল ইসলামের নাম। পরে আমিনুলের সূত্র ধরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার সহযোগী আরিফ চৌধুরী ও চক্রের সদস্য আরব আলীকে। তাদের দেওয়া জবানবন্দীতে উদঘাটন হয় সোনারগাঁয়ের রিক্সাচালক শাকিল হত্যার রহস্য।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে সাংবাদিকদের কাছে এমন তথ্যই তুলে ধরেছেন পিবিআই পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম। এ ঘটনায় শাকিলের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন ও অটোরিক্সা উদ্ধার করা হয়েছে।

২০১৮ সালের ১২ নভেম্বর সোনারগাঁ উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের গজারিয়া পাড়া এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে শাকিলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ১৩ নভেম্বর এ ঘটনায় ৩০২/২০১ ও ৩৪ পেনাল কোডে সোনারগাঁ থানায় মামলা করে নিহতের বড় ভাই মোঃ সজিব। ২০১৮ সালের ১৩ নভেম্বর থেকে ১৯ সালের ৬ জানুয়ারী পর্যন্ত তদন্ত করে সোনারগাঁ থানা পুলিশ। পরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে পিবিআইয়ে ন্যস্ত করা হয় ক্লু’লেস মামলাটি। ১৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হয় পিবিআই তদন্ত। গতানুগতিক তদন্তের পাশাপাশি বিজ্ঞান ভিত্তিক ও তথ্য প্রযুক্তির সহযোগীতায় ১ বছর ৭ মাস পর চাঞ্চল্যকর ও নির্মম অটোরিক্সা চালক শাকিল (১৮) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করা হলো।

পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম জানান, হত্যার ৭ থেকে ৮ দিন পূর্বে নিহত শাকিলের সাথে গাউছিয়া স্ট্যান্ডে পরিচয় হয় আসামীদের। আসামী আরিফ চৌধুরী সদ্য বিয়ে করায় অর্থ সংকটে ভূগছিলেন। আর আমিনুল ইসলাম লোভ সামলাতে পারেনি। ঘটনার দিন বিকালে শাকিলকে ফোন দেয় আসামী আরিফ। শাকিল অটোরিক্সা নিয়ে গাউছিয়া আসার পর তাজমহল এলাকায় যাওয়ার কথা বলে রিক্সায় উঠে আরিফ ও আমিনুল। গজারিয়া পাড়ার রাস্তার পাশে যেতেই পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী শাকিলকে অটোরিক্সা থেকে নামিয়ে গলায় থাকা মাফলার দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। মৃত্যুু নিশ্চিত হতে শাকিলের দুই চোখে রক্তাক্ত আঘাত করে। পরে শাকিলের পকেটে থাকা টাকা, মোবাইল ও অটোরিক্সা নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে অটোরিক্সা ৯ হাজার টাকা ও মোবাইল ৪‘শ টাকা বিক্রি করা হয়েছিল। এ ঘটনায় আরব আলীকে চোরাই অটোরিক্সা জানার পরেও কিনার অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এসএস/বি


বিশেষ প্রতিনিধি:

 সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৩৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে ২৫ হাজার ৩০০ জন এবং প্রাথমিকে ১০ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। 

অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই)। সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সারাদেশে প্রাক-প্রাথমিক স্তরে ২৫ হাজার ৩০০টি পদ সৃজন করা হয়েছে। গত দুই মাস আগে মন্ত্রণালয় থেকে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশনা দেওয়া হলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে জুন থেকে নিয়োগ-সংক্রান্ত প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছে ডিপিই।

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আকরাম আল হোসেন গণমাধ্যমের কাছে বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক পদ সৃজন করা হয়েছে। এসব পদে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে আমরা অনেক আগে অধিদফতরকে নির্দেশ দিয়েছি। পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদগুলো চিহ্নিত করে সেসব পদে নিয়োগ দিতে বলা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে কাজ শুরু করেছে ডিপিই।’

প্রার্কথমিক শিক্ষা অধিদফতর সূত্র জানায়, সারাদেশে ২৫ হাজার ৩০০ জন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষক ও ১০ হাজার শূন্যপদে (এ সংখ্যা কমবেশি হতে পারে) সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে ওয়েবসাইট আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। এর ফলে এবার প্রার্থী আবেদন করার পর সফটওয়্যারের মাধ্যমে অটোমেটিক ব্যক্তিগত ও একাডেমিক তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে। এতে করে আবেদন যাচাই-বাছাই করতে সময়ক্ষেপণ হবে না।

জানা গেছে, প্রাক-প্রাথমিক ও সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে ইতিমধ্যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি তৈরি করা হয়েছে। আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে। আবেদনকারী নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে স্নাতক (সম্মান), স্নাতক (পাস) বা সমমান ডিগ্রি করা হয়েছে। গত বছর অনলাইন আবেদন ফি ১৬৬ টাকা হলেও এবার আবেদন ফি কিছুটা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। বুয়েট ও টেলিটক মোবাইল কোম্পানির সহায়তায় আবেদন গ্রহণ, কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র পাঠানো, খাতা মূল্যায়ন ও ফল প্রকাশ করা হবে। আগামী অক্টোবরের মাসের প্রথম সপ্তাহে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। অনলাইন আবেদনের জন্য এক মাস সময় দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের নিয়োগ শাখার উপ-পরিচালক আতিক বিন সাত্তার বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর আমরা নিয়োগ-সংক্রান্ত কার্যক্রমের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছি। ইতিমধ্যে আবেদন গ্রহণের জন্য ওয়েবসাইট ডেভেলপ (উন্নয়ন) করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে আবেদনকারীর আবেদন সম্পন্ন হলে সার্টিফিকেট ও জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে অটোমেটিক তথ্য যাচাই-বাছাই হয়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাক-প্রাথমিক স্তরে ২৫ হাজার ৩০০ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। এটি প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প-৪ (পিইডিপি) এর আওতাভুক্ত হলেও প্রকল্পের মেয়াদ শেষে এ স্তরের শিক্ষকদের রাজস্বখাতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এছাড়া শূন্য সকল পদে নিয়োগ দিতে আরও ১০ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে। দুই স্তরে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি তৈরি করা হয়েছে। অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।’

প্রাক-প্রাথমিকের সময়সীমা ২ বছর ও শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে ৪ বছর বয়সসীমা করে গত ১৬ জুন প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব পাঠায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক স্তরে ৫ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের জন্য এক বছর মেয়াদি শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে। এ স্তরে অর্জিত সাফল্য ও অভিজ্ঞতা অর্জনে ৪ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের জন্য ২ বছর মেয়াদি করতে একটি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়। 

এসএস/বি

 

August 20, 2020

 


নিজস্ব প্রতিবেদক:


জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলায় ভার্চুয়াল মিটিং এর মাধ্যমে "জাতির পিতার জীবন নির্ভর বক্তব্য প্রতিযোগিতা" অনুষ্ঠিত হয়।


এ প্রতিযোগিতায় বন্দর উপজেলার ৩ টি ক্লাস্টারে সর্বমোট ৪০০ জন শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন। সেখান থেকে প্রথম পর্যায়ে প্রতি ক্লাস্টার থেকে ৩ জন করে মোট ৯ জন শিক্ষককে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নির্বাচন করা হয়।


বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় এই ৯ জনের মধ্যে ভার্চুয়াল বক্তব্য প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে ১ম স্থান অর্জন করেন মোঃ কামরুজ্জামান। ২য় স্থান অর্জন করেন মালিবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যায়ের মেহজাবিন আক্তার। এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন উম্মে হানি। 


উল্লেখ মেহজাবিন আক্তার ঢাকা  বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। তার পিতা আবু তাহের ভূঁইয়া ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ফেনী জেলায় স্বাধীনতার প্রথম পতাকা উত্তোলক।


প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেনা নির্বাহী কর্মকর্তা শুক্লা সরকার, প্রাথমিক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অহিন্দ্র কুমার মন্ডল, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সোহাগ হোসেন, উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফ উদ্দীন বিপ্লব, তাসলিমা সুলতানা এবং লিপি আক্তার। 


বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ রশিদ। 


সমাপনী বক্তব্যে জনাব এম এ রশিদ  প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে উপজেলা শিক্ষা অফিস এবং উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কর্তৃক পুরস্কৃত করার ঘোষণা দেন।

যোগাযোগের ফর্ম

Name

Email *

Message *

Theme images by merrymoonmary. Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget