ফেইসবুকে ইউএনও সাইদুল ইসলাম, বললেন "উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে"।

সদ্য সংবাদ ডেস্কঃ

 রবিবার দিবাগত রাত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 

ফেইসবুকে ব্যক্তিগত আইডিতে সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও সাইদুল ইসলাম পত্রিকায় প্রকাশিত খবরটির প্রেক্ষিতে প্রকৃত সত্যটি সোনারগাঁও বাসীর কাছে তুলে ধরেছেন।

(ছবি সংযুক্ত) 

 “উদোর পিন্ডি বুদোর  ঘাড়ে  ” 

ইউএনও’ সাইদুল ইসলাম এই স্ট্যাটাসটি দেওয়ার পর মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক কমেন্টসে কুচক্রী মহলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদসহ তীব্র নিন্দার ঝড় উঠে। মনগড়া বানোয়াট সংবাদ প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন মহল। 

নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুল ইসলামকে অনেকেই সমর্থন দিয়ে সাধুবাদ জানিয়ে কমেন্ট করেছেন তার পোস্টে। তার প্রতি প্রশংসা ও শুভকামনা জানিয়েছেন কেউ কেউ।

ইউএনও সাইদুল ইসলামের স্ট্যাটাসে পুরো বক্তব্য সদ্য সংবাদ এর পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো।

 উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে”

( To make cat’s paw of person.)

আচ্ছা ধরুন আপনি একটি বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে আছেন। এমন সময় দেখলেন আপনার অদূরে এক ছিনতাইকারী একজন নিরীহ লোকের মানিব্যাগ ছিনতাই করে দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। মূহুর্তেই আপনি ছিনতাইকারীকে ধাওয়া করলেন মানিব্যাগ উদ্ধারের জন্য। অনেকটা দৌড়ে ছিনতাইকারীর সাথে ধ্বস্তাধ্বস্তি করে কিছুটা আহত হয়ে আপনি মানিব্যাগটি উদ্ধার করলেন। এরপর বাসস্ট্যান্ডে ফিরে এলেন নিরীহ লোকটিকে মানিব্যাগটি অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে দেয়ার জন্য। এসে দেখলেন মানিব্যাগ হারানো লোকটিকে ঘিরে অনেক লোকের ভীড়। আপনি ভীড় ঠেলে লোকটির সামনে যাওয়ার চেষ্টা করলেন। এমন সময় ভীড়ের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ছিনতাইকারীর এক সহযোগী চিৎকার করতে লাগলো “এই যে দেখেন ছিনতাইকারী! এই যে দেখেন মানিব্যাগ “এরপর আপনি কিছু বুঝে উঠার আগেই আপনার হাতে মানিব্যাগ দেখে ভীড়ের লোকজন গনপিটুনি দিয়ে আপনাকে অজ্ঞান করে পুলিশে দিয়ে দিলো!

আচ্ছা হাসপাতালে জ্ঞান ফেরার পর আপনার অনুভূতি কেমন হবে বলুন তো !!
পরিতাপের বিষয় এই যে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী আমার অনূভুতিও এখন ওই মানিব্যাগ উদ্ধার করতে যাওয়া লোকটির মতই! টাকা উদ্ধারের জন্য আমি নিজেই চেক বাতিল করলাম আর আমাকেই বানিয়ে দিচ্ছেন…???
সংযুক্ত ছবিতে দেখা পত্রিকায় প্রকাশিত খবরটির প্রেক্ষিতে প্রকৃত সত্যটি আপনাদের কাছে তুলে ধরছি। কারন আমি সোনারগাঁবাসীর কাছে সত্যিই দায়বদ্ধ। 
প্রিয় সোনারগাঁবাসী,ঈদুল ফিতর এর আগে কোরনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সোনারগাঁ উপজেলায় ৫৯৭ টি মসজিদের সম্মানিত ঈমাম মুয়াজ্জিনগনের জন্য পাঁচ হাজার টাকা করে বরাদ্দ প্রদান করেন।এখানে লক্ষনীয় বিষয় এই যে ইসলামিক ফাউন্ডেশন সোনারগাঁ শাখা আমাকে না জানিয়েই তালিকাটি জেলাতে প্রেরন করে! এটি কেনো করেছে আমার বোধগম্য নয়!! ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর প্রেরিত তালিকা অনুযায়ী চেক প্রস্তুত করার জন্য আমি নিজে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা প্রদান করি। প্রস্তুতচেক স্বাক্ষরের সময় আমার কাছে কিছু অসামঞ্জস্যতা ধরা পড়ে যেমনঃ১. মোট ৮২ টি মসজিদের নাম দুইবার করে দেয়া হয়েছে। সাথে সাথে আমি সেই চেকগুলি নিজের হাতে লাল কালিতে লিখে বাতিল করি।(৮২×৫০০০= ৪,১০,০০০/- চার লক্ষ দশ হাজার টাকা) এবং অই চার লক্ষ দশ হাজার টাকা বাদপড়া মসজিদে বরাদ্দ প্রদানের  নির্দেশনা দেই। মসজিদের নাম সংগ্রহ করতে এই পেজে একটি স্টেটাসও দেই।
২। ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর প্রস্তুতকৃত তালিকা হতে মাননীয় সাবেক সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয়,আওয়ামীলীগের বর্ষীয়ান অনেক রাজনীতিবিদের মসজিদের নাম সহ ঐতিহ্যবাহী অনেক মসজিদের নাম কে বা কাহারা কৌশলে বাদ দেয়!! পরে বিস্তারিত তদন্ত করে জানতে পারি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আল আমিন নামের একজন ফ্লিড সুপারভাইজার কৌশলে টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্য এবং আমাকে আওয়ামীলীগের রাজনীতিবিদগনের কাছে বিতর্কিত করার জন্য দুরভিসন্ধিমূলকভাবে এই কাজটি করেছে। তাৎক্ষণিকভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মন্ত্রনালয়ে একটি প্রতিবেদন দেই।
হাস্যকর বিষয় এই যে, প্রকাশিত সংবাদটির পত্রিকার প্রতিনিধি আমার ও ফ্লিড সুপারভাইজার এর সাথে কোন কথা না বলেই আমাদের উদ্ধৃতি দিয়ে দিয়েছে!! এর কি কারণ থাকতে পারে? একের পর এক প্রকাশিত খবর অনুযায়ী আমার অবস্থাও এখন ওই মানিব্যাগ উদ্ধার করতে যাওয়া লোকটির মতই!! আমি নিজেই চেক বাতিল করলাম আর আমাকেই বানিয়ে দিচ্ছেন…???
প্রিয় সোনারগাঁবাসী,এইসব সংবাদ মাধ্যমকে ব্যবহার করা ছাড়াও আরো অনেকভাবেই স্বার্থক্ষুন্ন হওয়া যে সকল কুচক্রীমহল আপনাদেরকে বোকা বানিয়ে ধোকা দেয়ার চেষ্টা করছে- আসুন তাদের জন্য দুহাত তুলে প্রার্থনা করি। মহান সৃষ্ট কর্তা যেনো তাদের মনোবৈকল্যতা দুর করে দ্রুত সুস্থ দান করেন। আমিন।

No comments

Powered by Blogger.