আজ শেখ কামালের জন্মদিন,বিনম্র শ্রদ্ধা।


সদ্য সংবাদ -অপরাজিতা নীলঃ 

বলুন তো এটা কিসের লাইন?
এইযে লাইনের প্রথমেই দাঁড়ানো সুদর্শন মানুষটি কে?

অনেকেই জানেন না বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রথম অফিসারদের কথা। যুদ্ধের মধ্য দিয়েই এইসব অফিসারদের জন্ম। পরম গৌরব যে, মাতৃভূমি হানাদার মুক্ত করার জন্য শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তারা লড়াই করেছেন। ৯ অক্টোবর ৭১ এ সব অফিসারদের সামরিক ভাষায় ‘পাসিং আউট’ হয়। ১০৫ দিনের ট্রেনিং শেষে এসব তরুণ অফিসাররা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ার মুহুর্তে সেকেন্ড লেফটেনেন্ট ওয়ালির এক ছোট ডায়েরীতে তাদের অটোগ্রাফ দিয়েছেন। ওয়ালি ছিলেন প্রথম কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদেরই একজন। সেখানে শেখ কামালেরও একটা অটোগ্রাফ আছে। তিনি লিখেছিলেন 

“তোমার সফলতা কামনা করছি।”
শেখ কামালুদ্দিন
৯.১০.৭১
৮, থিয়েটার রোড
কোলকাতা

★বঙ্গবন্ধুর পরিবারের কেউই নাকি মুক্তিযুদ্ধ করে নাই। তাহলে কি দাঁড়ালো ব্যাপারটা? শেখ কামাল কেবল মুক্তিযোদ্ধাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম কমিশন্ডপ্রাপ্ত অফিসারদের একজন। এরকম আরো হাজারো মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তার অবদান মুছে দিতে চেয়েছিল ভ্রষ্ট মানুষরূপী শয়তানেরা।

বঙ্গবন্ধু আর তার পরিবারকে মেরেই কেবল শান্তি হয়নি খুনীদের, তারা চেষ্টা করেছে শেখ পরিবারের মুখে যতটা কালিমা লেপন করার যায়, তার পুরোটাই করতে। কিন্তু পেরেছে কি? সত্য হচ্ছে আগুনের মত, সেটা একদিন না একদিন প্রকাশ পায়ই।

আজ শেখ কামালের জন্মদিন!
১৯৪৯ সালের এই দিনে ওই সময়কার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গীপাড়া গ্রামে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা দম্পতির ঘর আলো করে জন্ম দেন শেখ কামাল। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের সেই কালো রাতে ঘাতকের বুলেট কেড়ে নেয় মাত্র ২৬ বছর বয়সী কামালের প্রাণ। ভয়াল সেই রাতে তিনিই ছিলেন খুনিদের হত্যাকাণ্ডের প্রথম শিকার।

শেখ কামাল বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিলেন। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরোচিত ভূমিকা রাখেন তিনি। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকহানাদার বাহিনী ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে হামলা চালানোর ঠিক আগ মুহূর্তে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান তিনি, সরাসরি অংশ নেন মুক্তিযুদ্ধে। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ওয়ার কোর্সে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিবাহিনীতে কমিশন্ড পান তিনি। পরে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল ওসমানির এডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

স্বাধীনতার পর শেখ কামাল সেনাবাহিনী থেকে অব্যাহতি নিয়ে লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করেন। পাশাপাশি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত থেকে সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা রেখে যেতে থাকেন।

রাজধানীর শাহীন স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে সম্মানসহ স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন শেখ কামাল। ‘ছায়ানটে’র সেতার বাদন বিভাগের ছাত্র ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শাহাদাত বরণের সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর শেষ পর্বের পরীক্ষার্থী ছিলেন। ওই সময় বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন জাতীয় ছাত্রলীগেরও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি।

স্বাধীনতা উত্তর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠন ও পুনর্বাসন কর্মসূচির পাশাপাশি সমাজের পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর ভাগ্য উন্নয়নে উদ্বুদ্ধকরণে মঞ্চ নাটক আন্দোলনের ক্ষেত্রে তিনি প্রথমসারির সংগঠক ছিলেন। বন্ধু শিল্পীদের নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন ‘স্পন্দন শিল্পী গোষ্ঠী’। শেখ কামাল ছিলেন ঢাকা থিয়েটারের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। অভিনয়শিল্পী হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যাঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি উপমহাদেশের অন্যতম সেরা ক্রীড়া সংগঠন, বাংলাদেশে আধুনিক ফুটবলের প্রবর্তক আবাহনী ক্রীড়া চক্রেরও প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

১৯৭৫ সালের ১৪ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ব্লু’ পদকপ্রাপ্ত দেশবরেণ্য অ্যাথলেট সুলতানা খুকুর সঙ্গে বিয়ে হয় শেখ কামালের। এর একমাসের মাথায় স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির বয়ে আনা সেই ইতিহাসের নৃশংসতম কালো রাত সাক্ষী হয় শেখ কামালের জীবনাবসানের।

বিনম্র শ্রদ্ধা, শুভ জন্মদিন  বীর মুক্তিযুদ্ধা  শেখ কামাল।শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি আপনাকে।

Marcadores:

Post a Comment

[blogger]

যোগাযোগের ফর্ম

Name

Email *

Message *

Theme images by merrymoonmary. Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget