ফোনের সূত্র ধরেই শাকিল হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই।


সদ্য সংবাদ ডেস্কঃ মাত্র ৪০০ টাকায় মোবাইল ফোন কিনেছিল সোহানা। খুবই সস্তা। খুশিতে গদগদ। সে কি জানতো এই মোবাইলেই শনাক্ত হবে শাকিল হত্যার রহস্য। দীর্ঘ ২ বছর পর সেই ফোনের খোঁজে ঘরের দরজায় কড়া নেড়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সোহানার দেওয়া তথ্যে বেড়িয়ে এসেছে মোবাইলের বিক্রেতা আমিনুল ইসলামের নাম। পরে আমিনুলের সূত্র ধরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার সহযোগী আরিফ চৌধুরী ও চক্রের সদস্য আরব আলীকে। তাদের দেওয়া জবানবন্দীতে উদঘাটন হয় সোনারগাঁয়ের রিক্সাচালক শাকিল হত্যার রহস্য।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে সাংবাদিকদের কাছে এমন তথ্যই তুলে ধরেছেন পিবিআই পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম। এ ঘটনায় শাকিলের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন ও অটোরিক্সা উদ্ধার করা হয়েছে।

২০১৮ সালের ১২ নভেম্বর সোনারগাঁ উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের গজারিয়া পাড়া এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে শাকিলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ১৩ নভেম্বর এ ঘটনায় ৩০২/২০১ ও ৩৪ পেনাল কোডে সোনারগাঁ থানায় মামলা করে নিহতের বড় ভাই মোঃ সজিব। ২০১৮ সালের ১৩ নভেম্বর থেকে ১৯ সালের ৬ জানুয়ারী পর্যন্ত তদন্ত করে সোনারগাঁ থানা পুলিশ। পরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে পিবিআইয়ে ন্যস্ত করা হয় ক্লু’লেস মামলাটি। ১৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হয় পিবিআই তদন্ত। গতানুগতিক তদন্তের পাশাপাশি বিজ্ঞান ভিত্তিক ও তথ্য প্রযুক্তির সহযোগীতায় ১ বছর ৭ মাস পর চাঞ্চল্যকর ও নির্মম অটোরিক্সা চালক শাকিল (১৮) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করা হলো।

পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম জানান, হত্যার ৭ থেকে ৮ দিন পূর্বে নিহত শাকিলের সাথে গাউছিয়া স্ট্যান্ডে পরিচয় হয় আসামীদের। আসামী আরিফ চৌধুরী সদ্য বিয়ে করায় অর্থ সংকটে ভূগছিলেন। আর আমিনুল ইসলাম লোভ সামলাতে পারেনি। ঘটনার দিন বিকালে শাকিলকে ফোন দেয় আসামী আরিফ। শাকিল অটোরিক্সা নিয়ে গাউছিয়া আসার পর তাজমহল এলাকায় যাওয়ার কথা বলে রিক্সায় উঠে আরিফ ও আমিনুল। গজারিয়া পাড়ার রাস্তার পাশে যেতেই পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী শাকিলকে অটোরিক্সা থেকে নামিয়ে গলায় থাকা মাফলার দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। মৃত্যুু নিশ্চিত হতে শাকিলের দুই চোখে রক্তাক্ত আঘাত করে। পরে শাকিলের পকেটে থাকা টাকা, মোবাইল ও অটোরিক্সা নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে অটোরিক্সা ৯ হাজার টাকা ও মোবাইল ৪‘শ টাকা বিক্রি করা হয়েছিল। এ ঘটনায় আরব আলীকে চোরাই অটোরিক্সা জানার পরেও কিনার অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এসএস/বি

No comments

Powered by Blogger.