সিদ্ধিরগঞ্জে আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত-২০,আটক-৯

সদ্য সংবাদ প্রতিনিধিঃ
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার নাসিক ৬নং ওয়ার্ডের সুমিলপাড়া রেললাইন এলাকায় কেরামবোর্ড খেলাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে দুই দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। 

গত রোববার(২-৮-২০২০) দিবাগত রাত ১০ টা থেকে ১১টার মধ্যে  প্রথম সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে। তখন গুরুতর আহত কয়েক জনকে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আঘাত প্রাপ্তদের স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। খবর পেয়ে র‌্যাব ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সংঘর্ষকারীদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় পুলিশ জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য মজিবুর রহমান মন্ডল, আলমগীর হোসেন, মাইনুদ্দিন, খোকন, শাহআলম,রুবেল, মাজেদা, আলামিন ও মোঃ জনিসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে।

কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতির ১৫ জন এবং সাবেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মন্ডলের পক্ষের ২৩ জনকে আসামী করে অজ্ঞাত ২০০-২৫০ জনের বিরুদ্ধে  সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।
সংঘর্ষ চলাকালীন সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনায় সোমবারও উভয় পক্ষের মধ্যে থমথমে অবস্থা বিরাজ করে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। 
পুলিশ ও প্রত্যাক্ষদর্শী জানায়, রোববার আদমজী রেললাইন এলাকায় কেরামবোর্ড খেলাকে কেন্দ্র করে একাধিক মামলার আসামী আক্তার হোসেন ওরফে পানি আক্তার ও শাকিলের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে এ ঘটনার জের ধরে উভয় গ্রুপ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। আক্তার হোসেন ওরফে পানি আক্তার সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের আহ্বায়ক ও নাসিক প্যানেল মেয়র-২ মতিউর রহমান মতির সহযোগী।
অন্যদিকে শাকিল নাসিক ৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মন্ডলের সমর্থিত লোক বলে জানা গেছে। 

বিষয়টি নিয়ে উভয়ের সম্মতিতে মঙ্গলবার(৪-৮-২০২০) নাসিক প্যানেল মেয়র-২ ও থানা যুবলীগের আহ্বায়ক মতিউর রহমান মতির কার্যালয়ে দুই পক্ষকে ডেকে এনে সংঘর্ষের মিমাংসার কার্য শুরু করেন মতিউর রহমান মতি। মতি তার লোকদের পক্ষ নিয়ে অপর পক্ষকে দোষারূপ করে বিচারকার্য করার অভিযোগে সাবেক কাউন্সিলর আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম মন্ডল সমর্থিত শাকিলের সহযোগীরা এর প্রতিবাদ করতে থাকে। এ সময় প্যানেল মেয়র মতিউর রহমান মতির উপস্থিতিতে পানি আক্তার গ্রুপের সদস্যরা চাপাতি, হকিস্টিক, রামদা, লোহার রড নিয়ে হামলা চালায় সিরাজমন্ডল সমর্থিত লোকদের উপর। এতে উভয়পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
 সংঘর্ষে বড় আইনুল,সোহেল, কুট্টি, আমির, আহসান উল্লাহ, হৃদয়, সবুজ, আরিফ, আসাদুল, বেগম, আসিফ, হৃদয়, ইব্রাহীম, সবুজ ও রাসেলসহ ২০ জন আহত হয়েছে। গুরতর আহতদেরকে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের সাধারণ চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। 

সংঘর্ষের খবর পেয়ে র‌্যাব ও  সিদ্ধিরগঞ্জ থানাপুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।  

 ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম মন্ডল জানান, কোরবানীর পশুর হাট ইজারা নিতে না পেরে এর প্রতিশোধ নিতে আমার পক্ষের লোকদের বিরুদ্ধে মতিউর রহমান মতি এ ঘটনা ঘটিয়েছে এবং প্রতিনিয়ত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে । তিনি আরও বলেন দুই পক্ষে মধ্যে সংঘর্ষ হলে কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি বিচার শালিস করার জন্য উভয় পক্ষকে তার অফিস নিয়ে যায়। ওই অফিসেই তার লোকজন তার উপস্থিতিতে প্রতি পক্ষের উপর হামলার চালায়। এতে আমাদের বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছে। সাবেক কাউন্সিল সিরাজুল ইসলাম মন্ডল আরও বলেন ইতিমধ্যে আমার বড়ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মজিবুর রহমান মন্ডল এবং বেশ কয়েকজন দলীয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করানো হয়েছে। 

 নাসিক প্যানেল মেয়র-২ মতিউর রহমান মতি জানান, সিগারেটে আগুন ধরানো কেন্দ্র করে দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পরে আমার অফিসে এনে বিচার শালিস করার সময় শাকিলের সহযোগীরা পাপনি আক্তার পক্ষের লোকজনের উপর হামলা চালায়। পরে আমি পুলিশ ডেকে এনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাধ্য হই।
 
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) ইশতিয়াক আশফাক রাসেল জানান,এই ঘটনায় মামলা হয়েছে, ইতিমধ্যে ৯ জনকে গ্রেফতার করা হইয়াছে, বাকিদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি এখন শান্ত।


No comments

Powered by Blogger.