নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন স্থান এখন আবর্জনার ভাগাড়!

 সদ্য সংবাদ ডেস্কঃ


 নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন স্থান এখন আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। 

নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লায় মাসে মাসে টাকা নিলেও হঠাৎ ময়লা নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে টাকা আদায়কারী প্রতিষ্ঠানগুলো। কবে ফের ময়লা নেয়া চালু হবে তাও জানায়নি তারা। এতে করে বিভিন্ন এলাকার বাসা-বাড়িতে ময়লা জমে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কিছু দিন পর পর নানা অজুহাতে বাসা বাড়ির বর্জ্য নেয়া বন্ধ করে দেয় তারা,তবে কোনো মাসে টাকা কম নেয় না।

দুই বছর ধরে জালকুড়ির লিংক রোডের পাশে সিটি করপোরেশন আবর্জনা ফেলা বন্ধ করে দিয়েছে, তারা এখন ফেলছে শহীদ নগর এলাকাতে।  জালকুড়িতে এতদিন ধরে আবর্জনা ফেলতো ফতুল্লা থানার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার ময়লা সংগ্রহকারীরা। 

জানা গেছে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের জালকুড়িতে ফতুল্লা থানার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার গৃহস্থালী বর্জ্য, ভ্যানগাড়ি দিয়ে কয়েকটি সংস্থা বাড়ি বাড়ি থেকে সংগ্রহ করে ফেলতো। বৃহস্পতিবার থেকে তারা ময়লা সংগ্রহ বন্ধ করে দিয়েছে বলে জানান বিভিন্ন এলাকার মানুষজন। এতে বসত বাড়িতে জমতে শুরু করেছে আবর্জনা। দেখা দিয়েছে গন্ধ। বসত বাড়িতে থাকাটাই দুস্কর হয়ে পড়েছে। তাছাড়া সবগুলো এলাকায় ময়লা আবর্জনা ফেলাও কার্যত বন্ধ। এসব কারণে চরম দুর্ভোগের শিকার লোকজন।

নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর বিভিন্ন স্থান এখন আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। শহরের উল্লেখযোগ্য মোড়গুলোতে পড়ে আছে আবর্জনার স্তূপ। নিয়মিত ও সঠিকভাবে পরিষ্কার করা হয় না বলে এসব আবর্জনা পচে উৎকট দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। একইসঙ্গে বেড়েছে মশা-মাছির উপদ্রব। বাসিন্দাদের কাছে নারায়ণগঞ্জ  এখন ‘ময়লা-আবর্জনার শহর’।

গত এক সপ্তাহে ঘুরে দেখা যায়, নগরীর ব্যস্ততম এলাকা তোলারামের মোড়,বাপ্পি স্মরণী,নিতাইগঞ্জ,দেওভোগ, কালিরবাজার,আমলাপারা,খানপুর হসপিটাল, মিশনপাড়া,জামতলা,মাজদাইর,ইজদাইর,দেওভোগ,গাপতলি ও চাষাড়া স্টেশন রোডের কোথাও কোথাও প্রধান সড়কের পাশেই পড়ে রয়েছে আবর্জনার স্তূপ।


 দিঘুবাবুর বাজার ও এর আশপাশের এলাকা দিয়ে যাতায়াত  প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে ।এই এলাকার ব্যাবসায়ী করিম বলেন,ময়লা-আবর্জনার কারণে বাসার বাইরে বের হতে ভয় লাগে। বাধ্য হয়ে বের হলে নাক-মুখ চেপে হাঁটতে হয়। তবুও গা ঘিন ঘিন করে, বমি পায়। বাজার ও হোটেল-রেস্তোরার আবর্জনা ফেলে রাখা হয়েছে যত্রতত্র। 

কিছু কিছু জায়গা থেকে বেলা ১১টার দিকে ট্রাকে ভরে আবর্জনা সরানো হচ্ছে। এতে পথচারীরা বিকট দুর্গন্ধের শিকার হচ্ছেন। সেই সাথে ১১টার দিকে ব্যস্ত সড়কের ওপর ট্রাক দাঁড় করিয়ে আবর্জনা পরিষ্কারের জন্য সৃষ্টি হচ্ছে যানজট।

সদর উপজেলার ফতুল্লা,কুতুবপুর ও এনায়েতনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বহুদিন ধরেই ময়লা নিচ্ছে না পরিচ্ছন্নকর্মীরা। এতে করে লাখ লাখ মানুষের বাড়ি, ঘরে ময়লা জমে একপ্রকার ময়লায় বন্দি হয়ে আছেন তারা।

এতে এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। এলাকাবাসির অভিযোগ, দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়া হলে ময়লার গন্ধে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হবে। পরিচ্ছন্নকর্মীদের দাবি, ময়লা ফেলার জায়গা না থাকায় তারা বাড়ি বাড়ি থেকে ময়লা নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

স্থানীয়রা বলেন, হঠাৎ আবর্জনা সংগ্রহ বন্ধ রয়েছে। এর আগেও কয়েকবার এমন হয়েছে। তবে এবার আবর্জনা সংগ্রহকারীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন কতদিন বন্ধ থাকবে সেটা নিশ্চিত না। এলাকবাসি জানান, বাসাবাড়ির ময়লা না নেয়ায় নানা সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার রাস্তায় রাস্তায় ময়লা জমে রয়েছে। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মেম্বারা যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেন তাহলে ময়লার গন্ধে বাদ্য হয়েই এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হবে। 

মহাসড়কের ওপর ফেলে রাখা হয়েছে হাসপাতাল ও শহরের বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক ও ল্যাবের ক্লিনিক্যাল বর্জ্য। নিয়মিত অপসারণ না করায় এসব বর্জ্য শহরের বাতাসকে বিষাক্ত করে তুলছে।


পরিচ্ছন্নকর্মীদের দাবি, ময়লা ফেলার জায়গা না থাকায় তারা বাড়ি বাড়ি থেকে ময়লা নেয়া বন্ধ করে ছিয়েছে। যেখানে আবর্জনা ফেলা হতো সেখানে ফেলতে নিষেধ করেছে পাশেই থাকা বিজিবি ক্যাম্পের লোকজন। তাই ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকা থেকে আবর্জনা সংগ্রহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।       

কুতুবপুর ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু বলেন, ময়লা ডাম্পিংয়ের জন্য সরকার আমাদের কোন জমি দেয়নি এবং আমাদের কাছে ময়লা ডাম্পিংয়ের কোন বরাদ্দ নেই। তাই কিছু করার নাই। তিনি আরো জানান, ইউনিয়নের ময়লা ফেলার জন্য ফতুল্লা রেলস্টেশনের পাশে জাবেদুল্লা ফ্যাক্টরির পেছনে ময়লা ফেলার কথা ছিল। কিন্তু এই জায়গার এলাকাবাসী মামলা করে বন্ধ করে দিয়েছে।দুর্গন্ধের জন্য  বিজিবি ক্যাম্প থেকেও ময়লা ফেলা নিষেধ করা হয়েছে।

নগরবাসীর অভিযোগ, বছরজুড়ে এভাবেই আবর্জনা অপসারণ করা হয়। এ নিয়ে সিটি কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দেওয়া হলেও তারা নির্বিকার।

নারায়ণগঞ্জ সিটি -মেয়র ড. সেলিনা হায়াত আইভী বলেন, ৩৩ দশমিক ৫৭ বর্গকিলোমিটার আয়তন ও প্রায় ষোল লাখ মানুষের এ শহরে জনবল ও যানবাহন সংকটের কারণে ময়লা-আবর্জনা সরানোর কাজে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

এসএস/বি


No comments

Powered by Blogger.