সোনারগাঁয়ে অবৈধভাবে সরকারি খাল ভরাট,উপজেলা প্রশাসনের নিরব ভূমিকা!



সদ্য সংবাদ ডেস্কঃ

নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বাড়িমজলিশ গ্রামের সরকারি খালগুলি অবৈধভাবে দখল হয়ে গেছে আরও ১৫ থেকে ২০ বছর আগে। এরইমধ্যে সরকারি খালগুলি অবৈধভাবে দখল করে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বিভিন্ন লোকজনের কাছে বিক্রি করা সহ বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। 

এলাকার লোকজনের কাছ থেকে জানা যায়,বাড়িমজলিশ গ্রামের পাশ দিয়ে দুইটি সরকারি খাল ছিল একটি কাজী ফজলুল হক উইমেন্স কলেজের পাশ থেকে বাড়িমজলিশ হাফেজিয়া মাদ্রাসা পর্যন্ত, অন্য খালটি বাড়িমজলিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিছন থেকে বাড়িমজলিশ হাফেজিয়া মাদ্রাসা পর্যন্ত। আর বর্তমানে সরকারি খাল দুটিই অবৈধভাবে দখল হয়ে গেছে।

নতুন করে গত কয়েকদিন আগে সরকারি খালের অবশিষ্ট অংশ বালি ভরাট করে দখলে নিচ্ছেন এলাকার প্রভাবশালীরা। আর এই সরকারি খাল দখলের ফলে এলাকায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। এই জলাবদ্ধতার কারণে এলাকার বসবাসরত জনসাধারণের  চলাফেরা ও বসবাসে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।

 এলাকার সাধারণ মানুষের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গতমাসের ২৮ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম ও সহকারী কমিশনার ভূমি আল মামুন সরকারি খাল উদ্ধারের জন্য বাড়িমসজিল গ্রামে পরিদর্শনে আসেন। সমস্ত কিছু পরিদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম জানান, আগামীকাল ২৯ সেপ্টেম্বর আমার উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি আল মামুনের নেতৃত্বে অবৈধভাবে দখলকৃত  সরকারি খালগুলো পুনরুদ্ধার করা হবে।

তারপর থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী ভূমি কমিশনার আল মামুন কারোরই দেখা মিলেনি।এলাকার ভুক্তভোগীরা জানান অদৃশ্য কারনে উপজেলা সহকারী ভূমি কমিশনার আল মামুন নিশ্চুপ হয়ে গেছেন।

এলাকাবাসী জানতে চায় ঢাকডোল পিটিয়ে খাল উদ্দারের নামে  উপজেলা প্রশাসনের আশাজাগানিয়া মিথ্যে আশ্বাস দেওয়ার কারন কি?

নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক একাধিক ব্যাক্তি জানান,স্হানীয় একটি চক্র বাড়িমজলিস গ্রামের বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে জলাবদ্ধতা দূরকরনের কথা বলে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

এই বিষয়ে ৪ অক্টোবর ইউএনও আতিকুল ইসলামকে সরকারি খাল উদ্ধারের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে বলেছিলেন,আমি সরকারি খাল উদ্ধারের দায়িত্ব সহকারী ভূমি কমিশনার আল মামুনকে দিয়েছি। উনি সব কিছু দেখবে। কিন্তু পরবর্তীতে সহকারী ভূমি কমিশনার আল মামুনকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমাকে কোনো দায়িত্ব দেয়া হয়নি।আপনারা ইউএনও আতিকুল স্যারের সাথে যোগাযোগ করুন। 

সর্বশেষ আজ ২২ অক্টোবর বিকেলে এই বিষয়ে জানতে ইউএনও আতিকুল ইসলামের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এসএস/বি

No comments

Powered by Blogger.