নারায়ণগঞ্জে মামুনুলকাণ্ডে কারাবন্দী অবস্থায় মাওলানা ইকবাল হোসেনের মৃত্যু।

 






নিজস্ব সংবাদদাতাঃ

হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক নারীসহ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আটকের ঘটনায়, হেফাজত কর্মীদের ঘেরাও পরবর্তীতে ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামি মাওলানা ইকবাল হোসেন (৫০) কারাবন্দী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।



নিহত মাওলানা ইকবাল হোসেন সোনারগাঁও উপজেলা হেফাজতে ইসলামের সহ-সভাপতি ও সোনারগাঁও উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। সে পৌরসভার জয়রামপুর এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম আবু সাঈদ। তার স্ত্রী, চার মেয়ে এক ছেলে রয়েছে।
বড় মেয়ে মাহবুবা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টার দিকে বাবা মারা গেছেন। তাকে বিনা অপরাধে ধরে এনে মেরে ফেলা হলো। আমাদেরকে সকালে জানানো হয়েছে তিনি খুব অসুস্থ। এখানে এসে আমরা দেখি তিনি ইতোমধ্যে আইসিইউ সাপোর্টে রয়েছেন।
তাকে ৩টার দিকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
এর আগে ১১ এপ্রিল রাজধানীর জুরাইন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১১-এর একটি দল।

গতকাল বৃহস্পতিবার(২০ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার শাহ রফিকুল ইসলাম।
নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার শাহ রফিকুল ইসলাম জানান,সোনারগাঁও থানায় ৪টি মামলায় গ্রেপ্তারের পর কারাগারে আনা হয় মাওলানা ইকবাল হোসেনকে। পরে তিনি অসুস্থ থাকায় নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।
পরবর্তীতে অবস্থা খারাপের দিকে যাওয়ায় ১১ মে ঢাকা জেলখানার মাধ্যমে হাসপাতালে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা জেলখানায় ফোন করে জানতে পারি সেই লোকটি সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় মারা গেছেন।

উল্লেখ্য,৩ এপ্রিল হেফাজত ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক এক নারীসহ সোনারগাঁয়ের‘রয়েল রিসোর্টে’সন্দেহজনকভাবে স্থানীয় জনতা দ্বারা অবরুদ্ধ হন। পরে বিক্ষুব্ধ হেফাজতকর্মীরা রয়েল রিসোর্ট ভাঙচুরসহ এলাকায় তাণ্ডব সৃষ্টি করে। রয়েল রিসোর্ট ছাড়াও হেফাজতকর্মীরা ঘটনার দিন সোনারগাঁও এলাকার একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় ব্যাপক সহিংসতা,গাড়ি ভাঙচুর, নাশকতা সৃষ্টি ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ অফিসে অগ্নিসংযোগ সহ যান চলাচলে ব্যাঘাত ঘটিয়ে জনমনে ভয়ভীতি সঞ্চার এবং সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি করে।

ঐ সময় সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মসজিদের ইমাম ও খেলাফতে মজলিশ সোনারগাঁও উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা ইকবাল হোসেন মাগরিবের নামাজের পর মসজিদের মাইকে উসকানিমূলক বক্তব্য ও মাইকিং এর মাধ্যমে প্রচার করে লোক জমায়েত করে এবং উক্ত হামলার নেতৃত্ব দেন।



এসএস/বি

Post a Comment

[blogger]

যোগাযোগের ফর্ম

Name

Email *

Message *

Theme images by merrymoonmary. Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget