২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা,মঞ্চের কাছেই ছিলেন এ এইচ এম মাসুদ দুলাল, স্প্লিন্টার বয়ে বেড়াচ্ছেন দেহে।

 সদ্য সংবাদ ডেস্কঃ

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি সমাবেশে নারকীয় গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। আর এতে অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটে।



শোকবিহ্বল জাতি শ্রদ্ধাবনত চিত্তে আজ ইতিহাসের ভয়াবহতম গ্রেনেড হামলার ১৭তম বার্ষিকী পালন করছে। প্রায় দেড় দশক আগে ২০০৪ সালের এই দিনে ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি সমাবেশে নারকীয় গ্রেনেড হামলা চালানো হয়।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতা সেদিন অল্পের জন্য এই ভয়াবহ হামলা থেকে বেঁচে গেলেও আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমান ও অপর ২৪ জন এতে নিহত হন। এ ছাড়া এই হামলায় আরো প্রায় ৪০০ জন আহত হন। আহতদের অনেকেই চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছেন। তাদের কেউ কেউ আর স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাননি।

হামলার প্রত্যক্ষদর্শী ছাত্রলীগের তৎকালীন প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বর্এতমান আওয়ামী লীগ নেতা এইচ এম মাসুদ দুলাল বলেন,২০০৪ সালের সারাদেশে জঙ্গিদের বোমা হামলা এবং গোপালগঞ্জে পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে ২১ আগস্ট বিকেলে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের দলীয় কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশের আয়োজন করে। মঞ্চের খুব কাছেই ছিলাম, শেখ হাসিনার আপার দিকনির্দেশনা মূলক বক্তব্য শোনা ও আগামীর কর্মসূচী গ্রহণ করার জন্য। সমাবেশের প্রধান অতিথি শেখ হাসিনা আপা অনুষ্ঠানস্থলে বিকেল পাঁচটায় পৌঁছালে,একটি ট্রাকের ওপর তৈরি মঞ্চে তিনি কুড়ি মিনিটের বক্তৃতা শেষে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করার ঘোষণা দেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা মঞ্চ থেকে নিচে নেমে আসতে থাকেন। ঠিক এমন সময় শুরু হয় মঞ্চ লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা৷ আকস্মিক গ্রেনেড বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলে মারাত্মক বিশৃঙ্খলা,ভয়াবহ মৃত্যু ও দিনের আলো মুছে গিয়ে এক ধোঁয়াচ্ছন্ন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

তিনি বলেন, মাত্র দেড় মিনিটের মধ্যে বিস্ফোরিত হয় ১১টি শক্তিশালী গ্রেনেড। আকস্মিক ঘটনায় বুঝে উঠতে পারেনি কি হচ্ছে। চারদিকে চিৎকার আর গোঙ্গানির শব্দ। আমার শরীরেও আঘাত,স্প্লিন্টার ঢুকে আছে,হত-বিহবল আমি। অনেক রক্তাক্ত দেহ,আহত-নিহতরা আমার ওপর পড়ে আছে।  আমার সেন্স হারিয়ে ফেলি। পরে হাসপাতালের বারান্দায় নিজেকে আবিষ্কার করি।

আর ঘটনাস্থলেই ১২ জন এবং পরে হাসপাতালে আরও ১২ জন নিহত হন। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের খুনিদের মতো ২১ আগস্টের হত্যাকারীদেরও একইভাবে ফাঁসিতে ঝোলানোর দাবি করেন এ এইচ এম মাসুদ দুলাল।  



মেয়র মোহাম্মদ হানিফ এবং শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত দেহরক্ষী তাৎক্ষণিকভাবে এক মানববলয় তৈরি করে নিজেরা আঘাত সহ্য করে শেখ হাসিনাকে গ্রেনেডের হাত থেকে রক্ষা করেন।

এই বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলায় নিহতদের মধ্যে ছিলেন- আইভি রহমান, শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী ল্যান্স করপোরাল (অব.) মাহবুবুর রশীদ, আবুল কালাম আজাদ, রেজিনা বেগম, নাসির উদ্দিন সরদার, আতিক সরকার, আবদুল কুদ্দুস পাটোয়ারি, আমিনুল ইসলাম মোয়াজ্জেম, বেলাল হোসেন, মামুন মৃধা, রতন শিকদার, লিটন মুনশী, হাসিনা মমতাজ রিনা, সুফিয়া বেগম, রফিকুল ইসলাম (আদা চাচা), মোশতাক আহমেদ সেন্টু, মোহাম্মদ হানিফ, আবুল কাশেম, জাহেদ আলী, মোমেন আলী, এম শামসুদ্দিন এবং ইসাহাক মিয়া।


এসএস/বি

Post a Comment

[blogger]

যোগাযোগের ফর্ম

Name

Email *

Message *

Theme images by merrymoonmary. Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget