ঢাকার পশুর হাটের নিরাপত্তায় ডিএমপির ব্যাপক প্রস্তুতি।


সদ্য সংবাদ ডেস্কঃ 
কোরবানির পশুর হাট কেন্দ্রিক বেশকিছু নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপি জানিয়েছে, উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে পশুর হাটের কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) ডিএমপির জনসংযোগ শাখা থেকে জানানো হয়, কোরবানির পশুর হাটগুলোর ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ ঢাকা মহানগরীর সব বিপণিবিতান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির টাকা লেনদেন ও পরিবহনে মানি এস্কর্ট ব্যবস্থা প্রবর্তন, সব লঞ্চ ও বাস টার্মিনালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশুর হাট কেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি কোরবানির হাটের জন্য স্বাস্থ্য বিধিমালা, কাঁচা চামড়া পাচার রোধ এবং কেনা-বেচার ব্যবস্থা, বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল এবং রেলওয়ে স্টেশন কেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ঈদ পরবর্তী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে ডিএমপি।
পশুর হাট কেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে থাকছে–
১. কোরবানির পশুর হাট কেন্দ্রিক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থা। 
২. পশুর হাট কেন্দ্রিক সাদা পোশাকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। 
৩. প্রতিটি পশুর হাটে ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন। 
৪. প্রতিটি পশুর হাটে অস্থায়ী পুলিশ কন্ট্রোল রুম স্থাপন। 
৫. পশুর হাট কেন্দ্রিক মানি এস্কর্ট ব্যবস্থা। 
৬. কন্ট্রোলরুম ও প্রতিটি থানায় মানি এস্কর্ট টিম স্ট্যান্ডবাই থাকবে।
৭. কোরবানির পশুর হাটে জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিন স্থাপন। 
৮. পশুর হাটের চৌহদ্দির বাইরে হাট বসতে না দেওয়া। 
৯. বলপূর্বক পশুবাহী ট্রাক ও নৌকা আটকিয়ে অন্য হাটে নামানো বন্ধ। 
১০. নির্ধারিত হারে হাসিল আদায় নিশ্চিত। 
১১. হাসিলের হার বড় ব্যানার ও ফেস্টুনের মাধ্যমে দৃশ্যমান রাখা। 
১২. জাল টাকার বিস্তার রোধ ও পশুর হাটে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি, পকেটমার ও অন্যান্য অপরাধীদের তৎপরতা বন্ধ করতে কার্যকরী ব্যবস্থা। 
১৩. পশুর বিক্রয়লব্ধ টাকা ছিনতাই প্রতিরোধে তৎপরতা।
১৪. অস্থায়ী পুলিশ কন্ট্রোলরুম ও ওয়াচ টাওয়ারে জন সচেতনতামূলক ব্যানার স্থাপন। ১৫. পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার নিশ্চিত এবং প্রবেশ মুখে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখা ও জীবাণুনাশক চেম্বার স্থাপন। 
১৬. করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে অনলাইন ভিত্তিক বিক্রয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে নিবন্ধিত হয়ে পশু বিক্রির জন্য উৎসাহিত করা। 
১৭. সার্বক্ষণিক মেডিক্যাল টিম ও ভেটেরিনারি অফিসার (পশুর ডাক্তার) নিয়োজিত রাখতে হবে।
১৮. হাট এলাকার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা।
১৯. পশুর হাট কেন্দ্রিক নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং ফায়ার টেন্ডার মোতায়েন রাখা। ২০. এরই মধ্যে ইজারাদারদের প্রতি কিছু দায়িত্ব পালনে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে- নির্ধারিত তারিখের আগে হাটে পশু না আনা, চৌহদ্দি বাঁশ দিয়ে ঘিরে রাখা, চৌহদ্দির বাইরে হাট না বসানো, পশু বহনকারী ট্রাকের সামনে হাটের নাম ব্যানারে লিখে রাখা। এক হাটের পশু অন্য হাটে না নামানো, নির্ধারিত হারের অতিরিক্ত হাসিল আদায় না করা, হাট এলাকায় সিসিটিভি স্থাপন ও মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা।
ক্রেতা ও বিক্রেতাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করা, জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখা এবং পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক দৃশ্যমান আইডি কার্ডসহ নিয়োগ করা। টাকা পরিবহনে পুলিশের মানি এস্কর্ট সেবা গ্রহণ করা, হাটের মধ্যে স্থায়ী খাবারের দোকান স্থাপন করা এবং কোরবানির পশু ব্যবসায়ীদেরকে মলম পার্টি, অজ্ঞান পার্টি সম্পর্কে সচেতন করতে লিফলেট দেওয়া ও মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করা।

No comments

Powered by Blogger.