ডাইং মালিককে নোংরা পানির মধ্যে হাঁটিয়ে পুরো এলাকা ঘোরান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা বারিক।

সদ্য সংবাদঃ
 
ডাইংয়ের নোংরা ও দূষিত পানির কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় দীর্ঘদিন ভোগান্তি পোহাচ্ছে ফতুল্লার লালপুর পৌষাপুকুর এলাকার কয়েক হাজার বাসিন্দা। অভিযোগ পেয়ে ওই ডাইং মালিককে নোংরা পানির মধ্যে হাঁটিয়ে পুরো এলাকা ঘোরান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা বারিক। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন তিনি। বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, ফতুল্লায় ৪টি এলাকার প্রায় ৭০ হাজার মানুষ গত কয়েক মাস যাবত পানিবন্দী। স্থানীয় আজাদ ডাইং কারখানার বর্জ্য পানি ছেড়ে দেয়া হচ্ছে এলাকায়। শত অনুরোধের পরেও এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়নি ডাইং মালিক কর্তৃপক্ষ। ভোগান্তির কথা জানতে পেরে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান পত্নী সালমা ওসমান লিপি সদর ইউএনও নাহিদা বারিককে বিষয়ি জানান এবং ব্যবস্থা নিতে বলেন। পরে সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেন ইউএনও। আজাদ ডাইং এর মালিক আজাদউদ্দিনকে সাথে নিয়ে ইউএনও নাহিদা বারিক ডাইংয়ের জমে থাকা নোংরা কালো পানি মাড়িয়ে ঘুরিয়ে এলাকার পরিদর্শন করান। যাতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ওই ডাইং মালিকের কিছুটা অনুভবে আসে।

স্থানীয় ভুক্তভোগী বাসিন্দা হারুন মিয়া জানান, কয়েকশ বার অনুরোধ করেছি ডাইং মালিককে। কিন্তু কোন কথা শোনেনি। সে স্থানীয় এক যুবলীগ নেতার খালু। এছাড়া স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রশাসনের অসাধু কিছু কর্মকর্তার কারণে অভিযোগ করেও কোন লাভ হয়নি। এছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরকে অভিযোগ দিলেও অভিযোগ গ্রহণ করেনি। তিনি আরো জানান, বিষয়টি আমরা ফেসবুকে এমপি পত্নী লিপি ওসমানকে অবগত করি।
এ বিষয়ে ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান স্বপন বলেন, এটা আমার দুর্ভাগ্য। লোকটাকে যে কতবার বলেছি ডাইং এর পানি ফেলবেন না। কিন্তু উনি কারো কথা শোনেনি।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা বারিক জানান, ডাইং এর পানি রাস্তায় ফেলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি ও মানুষকে কষ্ট দেয়ায় ডাইং প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া ডাইং মালিককে সাথে নিয়ে নোংরা পানি মাড়িয়ে আমি নিজেসহ এলাকাটি ঘুরেছি। যাতে ভোগান্তির শিকার মানুষরে কষ্ট ডাইং মালিক নিজে উপলদ্ধি করতে পারি।

তিনি আরো জানান, এমপি পত্নী লিপি ওসমানকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে এলাকার মানুষ। তার কাছে বিষয়টি যাওয়ার সাথে সাথে তিনি আমাকে কল করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছেন। সেই লক্ষ্যে সেখানে ২ টি অতিরিক্ত পাম্প বসানো হচ্ছে আটকে যাওয়া জলাবদ্ধতার পানি নিষ্কাশনে।


Post a Comment

[blogger]

যোগাযোগের ফর্ম

Name

Email *

Message *

Theme images by merrymoonmary. Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget