উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আওতাধীন সকল স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারি স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারিরা কর্মবিরতি পালন।

 

সদ্য সংবাদ ডেস্কঃ

নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্মুখে নিয়োগবিধি সংশোধন,বেতন আপগ্রেডেশন ও টেকনিক্যাল পদমর্যাদার দাবিতে অত্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আওতাধীন সকল স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারি স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারিরা কর্মবিরতি পালন করেছে।



বাংলাদেশ হেলথ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশনের আহবানে সমগ্র বাংলাদেশব্যাপী পালিত উক্ত কর্মসূচির সাথে মিল রেখে (২৬ নভেম্বর) বৃহস্পতিবার সকাল ১০ ঘটিকায় উল্লেখিত দাবি আদায়ে তারা কর্মবিরতি পালন করেন।
দাবি আদায় না হলে ও উক্ত কর্মবিরতি চলমান থাকলে সারাদেশে ১ লক্ষ ২০ হাজার টিকাকেন্দ্রে মারাত্মক ১০টি রোগের টিকা দেয়া বন্ধ থাকবে। ফলে এসকল রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাবে।

তাছাড়া আগামী ৫ই ডিসেম্বর ২০২০ থেকে ১৭ই জানুয়ারি ২০২১ পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইনে ৯মাস থেকে ১০ বছরের প্রায় ৩ কোটি ৫০ লক্ষ শিশু টিকা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হবে। ফলে দেশে হাম-রুবেলা রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাবে। এতে করে দেশের জনস্বাস্থ্য খাত বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

কর্মবিরতিতে উপস্থিতরা তাদের বক্তব্যে গণমাধ্যমকে জানান, নিয়োগবিধি সংশোধন সহ ক্রমানুসারে স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারি স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারিদের বেতন গ্রেড ১৬তম থেকে যথাক্রমে ১১,১২ ও ১৩তম গ্রেডে উন্নীতকরণ করতে হবে।
তারা বলেন,৭০ এর দশকে পরীক্ষামূলকভাবে এ সকল স্বাস্থ্য সহকারিদের শুধু বসন্ত ও ম্যালেরিয়া রোগ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব এককভাবে প্রদান করেন। স্বাস্থ্য সহকারিদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দেশ থেকে বসন্ত ও ম্যালেরিয়া রোগ নির্মূল সম্ভব হয়েছে। ১৯৭৯ সালের ৭ এপ্রিল ইপিআই চালু করা হয়। এ কর্মসূচির আওতায় দেশের ১ লক্ষ ২০ হাজার আউটরিচ রুটিন টিকাদান কেন্দ্রের কর্মসূচি এককভাবে স্বাস্থ্য সহকারিদের উপর ন্যস্ত করা হয়। টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা স্বাস্থ্য সহকারিরা বর্তমানে ১০টি মারাত্মক সক্রামিত রোগের টিকা প্রদান করে থাকি। আমরা স্বাস্থ্য সহকারিরাই ২০১৩ সালের ২৫ জানুয়ারি ৯মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সের ৫ কোটি ২০ লাখ শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা সফলভাবে প্রদান করতে সক্ষম হই।

তৃণমূল এ স্বাস্থ্য সহকারিদের কাজের অর্জনেই বাংলাদেশ আজ টিকাদানে বিশেষ রোল মডেলে পরিণত হয়েছে এবং সরকার প্রধান হতে পেয়েছে ৭টি পুরস্কার। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘গ্লোবাল এলায়েন্স ফর ভ্যাক্সিনেশন এন্ড ইমুনাইজেশন’ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভ্যাকসিন হিরো উপাধিতে ভূষিত করেন। এ সম্মাননাগুলো অর্জনে একমাত্র কারিগর আমরা স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারি স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারিরা।

তাছাড়া মহামারী করোনা পরিস্থিতিতে সারাদেশ যেখানে জনসমাগম এড়িয়ে চলতে সরকার নির্দেশনা দিয়েছিলেন এবং ঘোষণা করেছিলেন সাধারণ ছুটি। আর সে অবস্থায় করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি নিয়ে মাঠে জনগণকে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সহ আমরা স্বাস্থ্য সহকারিরা টিকাদান করেছি এবং করোনার প্রথম দিকে বিদেশ ফেরতদের তথ্য সংগ্রহ করে আমরা স্ব স্ব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করেছি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৮ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারি স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারিদের মহাসমাবেশে আমাদের বেতন বৈষম্য নিরসণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ২০১৮ সালের ২ জানুয়ারি তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী আমাদের দাবি মেনে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একটি কমিটি গঠন করে দেন। যা আজও পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। অতিসত্তর আমাদের দাবিগুলো মেনে নিতে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

এসময় বাংলাদেশ হেলথ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন সোনারগাঁও উপজেলা শাখার (দাবী বাস্তবায়ন কমিটির) আহবায়ক ও স্বাস্থ্য পরিদর্শক আব্দুল মতিন মিয়া, এবং অত্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের "হেলথ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশনের " সভাপতি, মোঃ মহিউদ্দিন ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোক্তার হোসেন সহ অত্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আওতাধীন সকল স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারি স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারীগন উপস্থিত ছিলেন।


এসএস/বি

No comments

Powered by Blogger.