২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলার দুঃসহ স্মৃতি এখনো ভুলতে পারেন না এ এইচ এম মাসুদ দুলাল।

সদ্য সংবাদ ডেস্কঃ

 

ভয়াবহ ২১ আগস্ট রাজনৈতিক ইতিহাসের জঘন্য ও কলঙ্কিত একটি দিন। স্বাধীনতা বিরোধী বিএনপি-জামাত চক্র এইদিন হায়নার মত গ্রেনেড নিক্ষেপ করে আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল। ষড়যন্ত্র, লোভ-লালসা আর পিছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতা যাওয়ার জন্য এইদিন বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার ঘৃণ্য মতলব হাসিল করার পাঁয়তারা করে গ্রেনেড হামলা চালিয়েছে বিএনপি জামাত জোট। তৎকালীন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা, প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানের শেষে তাঁর হাতে থাকা একটি কাগজ ভাঁজ করতে করতে এগুচ্ছিলেন ট্রাক থেকে নামার সিঁড়ির কাছে। এসময় শুরু হলো নারকীয় গ্রেনেড হামলা। বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হতে লাগল একের পর এক গ্রেনেড।

মঞ্চে দাড়ানো নেতৃবৃন্দ তাৎখানিক মানববর্ম তৈরি করে শেখ হাসিনাকে রক্ষা করেন।  

নেত্রীর ঠিক সামনেই দাড়িয়ে ছিল নারায়নগন্জ-সোনারগাঁয়ের কৃতী সন্তান অকুতোভয় ছাত্রনেতা এ এইচ এম মাসুদ দুলাল। আল্লাহের অশেষ রহমতে প্রাণে বেঁচে যান,কিন্তু ঐ নরপিচাশদের স্প্রিন্টার এখনো শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছেন। নেত্রীর নির্দেশে করা আহত নেতাদের তালিকা বইয়েও ১৬৮ নম্বরে তার নাম লিখা আছে। হিমশীতল মৃত্যুর স্পর্শ থেকে বেঁচে যাওয়া দুলাল এখনো বিশ্বাসই করতে পারেন না, আসলে তিনি জীবিত আছেন কি না। মৃত্যুর এত কাছাকাছি গিয়ে আবার ফিরে আসায় হয়তো তিনি নতুন জীবন পেয়েছেন।

কিন্তু যত দিন তিনি বেঁচে থাকবেন ততদিনই বহন করে যেতে হবে সেই দুঃস্বপ্নের মতো তাড়িয়ে বেড়ানো স্মৃতিকে, হঠাৎ করে গভীর অন্ধকারে তলিয়ে যাওয়ার সেই ঘটনাকে।

 তিনি এক বার্তায় বলেন, দেড় দশক আগে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে ২০০৪ সালের ২১ শে আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী শান্তি সমাবেশে নারকীয় গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। সেই গ্রেনেড হামলার সাথে নারায়ণগঞ্জের একজন জড়িত ছিলেন, তিনি হলেন র‌্যাবের হাতে ক্রসফায়ারে নিহত যুবদল নেতা মমিন উল্লাহ ডেভিডের ছোট ভাই শাহাদাত উল্লাহ জুয়েল। শাহাদাত উল্লাহ জুয়েল যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী। সে এখন কারাগারে রয়েছে। সেদিনের হামলায় অন্যদের সঙ্গে মারা যান নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার গাবতলী এলাকার রতন সিকদার।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ স্থানীয় কয়েকজন নেতা সেদিন অল্পের জন্য এই ভয়াবহ হামলা থেকে বেঁচে গেলেও মহিলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক বেগম আইভি রহমান ও অপর ২৪ জন এতে নিহত হন। এছাড়া এই হামলায় আরো ৪শ’ জন আহত হন। আহতদের অনেকেই চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছেন। তাদের কেউ কেউ আর স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাননি। বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলা মামলার রায় হয়েছে। আপিল শেষ হয়নি।

এই বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলায় নিহতদের মধ্যে ছিলেনঃ 

আইভি রহমান, শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী ল্যান্স করপোরাল (অব:) মাহবুবুর রশীদ, আবুল কালাম আজাদ, রেজিনা বেগম, নাসির উদ্দিন সরদার, আতিক সরকার, আবদুল কুদ্দুস পাটোয়ারি, আমিনুল ইসলাম মোয়াজ্জেম, বেলাল হোসেন, মামুন মৃধা, রতন শিকদার, লিটন মুনশী, হাসিনা মমতাজ রিনা, সুফিয়া বেগম, রফিকুল ইসলাম (আদা চাচা). মোশতাক আহমেদ সেন্টু, মোহাম্মদ হানিফ, আবুল কাশেম, জাহেদ আলী, মোমেন আলী, এম শামসুদ্দিন এবং ইসাহাক মিয়া।

মারাত্মক আহতরা হলেনঃ

শেখ হাসিনা, আমির হোসেন আমু, প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাক, প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, ওবায়দুল কাদের, মোহাম্মদ হানিফ, সম্প্রতি প্রয়াত এডভোকেট সাহারা খাতুন, এ এফ এম বাহাউদ্দিন নাছিম, আওলাদ হোসেন, মাহবুবা পারভীন, এডভোকেট উম্মে রাজিয়া কাজল, নজরুল ইসলাম বাবু, নাসিমা ফেরদৌস, শাহিদা তারেক দিপ্তী, রাশেদা আখতার রুমা, হামিদা খানম মনি, ইঞ্জিনিয়ার সেলিম, রুমা ইসলাম, কাজী মোয়াজ্জেম হোসেইন, মামুন মল্লিক প্রমুখ।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামি যারাঃ

আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ড (ফাঁসি) পেয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন, হুজির সাবেক আমির ও ইসলামিক ডেমোক্রেটিক পার্টির আহ্বায়ক মাওলানা শেখ আবদুস সালাম, কাশ্মীরি জঙ্গি আবদুল মাজেদ ভাট, আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোস্তফা, মাওলানা শওকত ওসমান, মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান, মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডাঃ জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, হোসাইন আহম্মেদ তামিম, মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন, মোঃ রফিকুল ইসলাম সবুজ, মোঃ উজ্জ্বল রতন, সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনএসআই) সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম ও হানিফ পরিবহনের মালিক বিএনপি নেতা মোহাম্মদ হানিফ।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেনঃ

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা হারিছ চৌধুরী, বিএনপি নেতা সাবেক এমপি কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, হরকাতুল জিহাদ (হুজি) সদস্য হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, শাহাদাৎ উল্লাহ ওরফে জুয়েল, মাওলানা আবদুর রউফ, মাওলানা সাব্বির আহমেদ, আরিফ হাসান ওরফে সুমন, আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, মো. আরিফুল ইসলাম আরিফ, মহিবুল মুত্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন, আনিসুল মুরছালিন ওরফে মুরছালিন, মো. খলিল ওরফে খলিলুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মো. ইকবাল ওরফে ইকবাল হোসেন, লিটন ওরফে মাওলানা লিটন, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আব্দুল হাই ও রাতুল আহমেদ ওরফে রাতুল বাবু।

তাছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত ১১ আসামি হলেনঃ

পুলিশের সাবেক তিন আইজি মোঃ আশরাফুল হুদা, শহুদুল হক ও খোদা বক্স চৌধুরী, খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, লে. কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার, ডিজিএফআইর মেজর জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন, ডিএমপির সাবেক উপকমিশনার (দক্ষিণ) খান সাঈদ হাসান, সাবেক উপকমিশনার (পূর্ব) ওবায়দুর রহমান খান, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক সিআইডির সাবেক বিশেষ সুপার মোঃ রুহুল আমিন, সাবেক এএসপি আবদুর রশিদ ও সাবেক এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান।

অভিযোগ রয়েছে, মূলত আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শূন্য করতে বিএনপি-জামায়াত তথা চার দলীয় জোট সরকার রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে নৃশংসতম গ্রেনেড হামলা চালায়।

দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।


এসএস/বি

Marcadores:

Post a Comment

[blogger]

যোগাযোগের ফর্ম

Name

Email *

Message *

Theme images by merrymoonmary. Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget