নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁয়ে মাদ্রাসা হুজুরের নির্মম প্রহারে পা ভেঙে গেলো এক কোমলমতি শিক্ষার্থীর।

 

 আহত ছাত্র জুনায়েদ

সদ্য সংবাদ ডেস্কঃ

নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁয়ে টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে জুনায়েদ (১০) নামের এক মাদ্রাসা ছাত্রকে বেঁধে বেধড়ক পিটিয়ে পা ভেঙে দিয়েছে মাদ্রাসা হুজুর মাওলানা মহিবুল ইসলাম। ঘটনার পর থেকে হুজুর পলাতক।

 জানা গেছে, উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউপির আনন্দবাজার এলাকার বসনদরদী গ্রামের গোলজার হোসেনের ছেলে জুনায়েদ, স্থানীয় আল কাসিম নূরানী কিন্ডারগার্টেন ও মাদ্রাসার নজরানা বিভাগে পড়াশোনা করছে।

 সোমবার ( ২৮-০৯-২০২০) সকালে উক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা মহিবুল ইসলাম ছাত্র জুনায়েদকে হাত পা বেঁধে কাঠের ডাসা দিয়ে বেধড়ক পিটুনি দেয়। এতে তার ডান পা ভেঙে যায়।  ছাত্র জুনায়েদকে শিক্ষক মহিবুল ইসলাম বাড়ি চলে যেতে বলেন ও কাউকে কিছু জানাতে নিষেধ করে, ভয়ভীতি দেখায়।এক সময় অসুস্থ জুনায়েদ বাড়িতে গেলে তার বাবা, ভাই তাকে স্থানীয় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়। এক্সরে করে রিপোর্টে দেখা যায় পা লাঠির আঘাতে ফেটে গিয়েছে।

 মারার কারণ জানতে চাইলে জুনায়েদ জানায়, বিনা কারণে চুরির অপবাদ দিয়ে তাকে হাত পা বেঁধে কাঠ দিয়ে পিটিয়ে পা ভেঙে দেয়। তবে সে কোন চুরির বিষয়ে জানেনা। এদিকে ঘটনার রাতেই ছাত্রের বাবা মাদ্রাসায় গেলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ছাত্রের বাবাকে ২০০০ টাকা ধরিয়ে দেয় এবং বলে পরে বসে আপোষ মিমাংসা করা হবে। এদিকে ছাত্রের শরীর আরো খারাপ হলে বুধবার দুপুরে সোনারগাঁও সেবা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায় তার বাবা মা ও ভাই। 

অধ্যক্ষ ইয়াকুব মিয়া  

এদিকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও পরিচালক মাওলানা ইয়াকুব মিয়া জানান ঘটনা সত্য, ছাত্রের বাবার সাথে মীমাংসাও হয়ে গেছে।এই সম্পর্কে আর কথা বলতে রাজি হননি তিনি।অনেক চেষ্টাকরেও তার সাথে আর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা যায়নি। 

সদ্য সংবাদ টিম সরেজমিনে ঘটনাস্থল সেই মাদ্রাসায় গেলে,মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে অন্য শিক্ষকরা এ বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি নন। মাদ্রাসায় গিয়ে আরো দেখা যায় ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে কভিট-১৯ এর কোন স্বাস্থ্য সুরক্ষা মানা হচ্ছে না। 


মাদ্রাসার ক্লাসরুম 


এই বিষয়ে সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম জানান, মাদ্রাসা ছাত্রকে মারধরের ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


এসএস/বি

No comments

Powered by Blogger.