সোনারগাঁওয়ে বিএনপি নেতা টিটুর নির্দেশে হামলা,যুবলীগ নেতা সজিব আহত।

 

সদ্য সংবাদ ডেস্কঃ 


নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যর নাম ভাঙ্গিয়ে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, জমি দখল,বালুমহল ও মাদক-ব্যবসা সহ নানান অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে হেফাজত মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ও স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। 



জানা যায়, ২০ সেপ্টেম্বর বিকালে বিএনপি সরকারের সাবেক দলীয় মন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিমের "ক্রিমিনাল অ্যাক্টিভিটি" ওরা ১১ জনের অন্যতম সদস্য সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি সালাউদ্দিনের নির্দেশে তার বড় ছেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ মিঠু, মেজো ছেলে এক সময়ের থানা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী ওমর ফারুক টিটু ও ছোট ছেলে সোনারগাঁও উপজেলা ছাত্রদল নেতা রিতু এবং তাদের সহযোগীরা চাঁদা না পেয়ে  ইউনিয়ন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক ব্যবসায়ী  নাজমুল হাসান সজিবের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সোনারগাঁও থানার একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

মোগরাপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান সজিব জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই সন্ত্রাসীরা এলাকায় অবস্থিত বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে আসছে। তিনি বলেন,

দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার ঢাকা- চট্টগ্রাম টিপুরদি এলাকায় অবস্থিত ক্যান্টাকি নামে একটি পোশাক তৈরির প্রতিষ্ঠানের সাথে ব্যবসা করে আসছেন। হামলাকারীরা দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবিতে বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে।

কিন্তু তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানান।

ঘটনার দিন ব্যবসায়িক কাজে যুবলীগ নেতা সজিব ওই পোশাক কারখানায় গেলে, সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি সালাউদ্দিনের বড় ছেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক হারুন অর রশিদ মিঠু, মেজো ছেলে এক সময়ে থানা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী ওমর ফারুক টিটু ও ছোট ছেলে সোনারগাঁও উপজেলা ছাত্রদল নেতা রিতু এবং জাহিদুল,বাড়ি মজলিস গ্রামের মৃত আফজালের ছেলে আরাফাত, ছোট সাদীপুর গ্রামের গিয়াসউদ্দিন মাস্টারের ছেলে সোহেল,নগর সাদীপুর গ্রামের সবুরের ছেলে আরমান সহ আরো ১০/১৫ জন সশস্ত্র অবস্থায় তার উপর অতর্কিত হামলা চালায়।

তিনি আরো বলেন, হামলাকারীদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি আরমান আহমেদ সাদাফ,

নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, 

মোগরাপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান অনয়, 

তারা কীভাবে দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে  বিএনপির নেতাদের সাথে মিলিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। পাশাপাশি এই সব সন্ত্রাসীদের শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবী জানাচ্ছি।

গোপন সূত্রে জানা যায় যে,টিটুর রয়েছে বিশাল এক কিশোর গ্যাং,যাদের ভয়ে মানুষ রাস্তায় হাটতেও ভয় পায়।

তথাকথিত সোনারগাঁওয়ের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও শীর্ষ সন্ত্রাসী গিট্টু হৃদয় র‍্যাব ১১ এর সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হওয়ার পর তার সহযোগী সানী,আরাফাত, সাকিব ও ফেরদৌস যখন দিশেহারা। ঠিক তখনই সেই সুযোগ টি কাজে লাগিয়েছে বিএনপি নেতা টিটু। তাদেরকে নিজের বলয়ে নিয়ে অপরাধ মূলক কর্মকান্ড করে বেড়াচ্ছে।

তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারেনা। টিটুর নেতৃত্বে ,জাহেদুল,আরাফাত,সাকিব বিভিন্ন সময় ইউসান গার্মেন্টস এর পশ্চিম পাশে টিটুর নিজস্ব পার্কিং এর সামনে মানুষের মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়। 

গিট্টু হৃদয় নিহত হওয়ার পর বিএনপি নেতা টিটুর নেতৃত্বে এখন মাদক ব্যবসা পরিচালনা করেন আরাফাত এবং জাহিদুল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন,

টিটু ও টিটুর পরিবারের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। বিএনপি নেতা টিটু ইউসান গার্মেন্টস এর দায়িত্ব থাকা অবস্থায় প্রায় ৬০/৭০ জন শ্রমিকের আট দশ মাস করে বেতন আটকে দিয়ে লক্ষ্য লক্ষ্য টাকা হাতিয়ে নেয়। কোন শ্রমিক তার কাছে বেতনের টাকা চাইতে আসলেই তার উপরে চলে নিজস্ব বাহিনী দিয়ে পাশবিক নির্যাতন। আর নির্যাতিত হওয়ার ভয়ে এখন আর কেউ টিটুর কাছে বেতন চাইতে যায় না। এলাকাবাসী বলেন আমরা এ সব অত্যাচার এর প্রতিকার চাই।

সোনারগাঁও থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন,সংর্ঘষের খবর পেয়েছি, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এসএস/বি

Post a Comment

[blogger]

যোগাযোগের ফর্ম

Name

Email *

Message *

Theme images by merrymoonmary. Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget